‌সংবাদে প্রকাশ বিহারে চিকিৎসকের ভয়ঙ্কর টানাটানি। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসক থাকবার কথা ১২ হাজারের সামান্য কিছু বেশি। সরকার এতগুলি পদের অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু আছেন ক’‌জন?‌ পঁাচ হাজারের সামান্য বেশি। শুধু চিকিৎসক নন, নার্সের সংখ্যাও খুব কম। থাকার কথা ১৯ হাজার, আছেন মাত্র ৫ হাজার ৬৩২ জন। আরও তথ্য আছে?‌ আছে। এ বছর এখন পর্যন্ত বিহারে এনসেফেলাইটিসে ১৫৭ জন শিশু মারা গেছে। এই তথ‌্য কার?‌ খোদ বিহার সরকারের। নীতীশ কুমারের সরকার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় জানিয়েছে। এর মধ্যে কোনও  রাজনীতি নেই। সরকারকে বেকায়দায় ফেলবার জন্য কেউ ষড়যন্ত্র করেনি। তাই তথ্য জেনে আমরা শিউরে উঠি। আমাদের প্রতিবেশী রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার এ কী হাল!‌ সেখানকার দরিদ্র মানুষ তো চিকিৎসাই পাচ্ছেন না! অনেক ভয়ঙ্কর প্রশ্ন মনে জাগছে। কেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক কম?‌ এর জন্য কে বা কারা দায়ী?‌ হাজার হাজার মানুষকে যে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ফিরে যেতে হচ্ছে অথবা অবর্ণনীয় দুর্দশার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তার দায় কে বা কারা নেবেন? চিকিৎসা পাওয়া দেশের মানুষের অধিকার। কারও দয়া নয়। বিহারের মানুষও আমার দেশের মানুষ। কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালে অতি জঘন্য এক ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসক, সুধীসমাজ এবং সচেতন মানুষ গর্জে উঠেছিলেন। রাজ্যে তো বটেই গোটা দেশে এমনকী বিদেশেও তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। সেদিন বিবেকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিল। ঠিক করেছিল। ক্রোধ ও কান্নার প্রতিবাদে চারপাশ উঠেছে জ্বলে। ঠিক হয়েছিল। চিকিৎসা, চিকিৎসকদের নিয়ে অনাচার চলতে পারে না। বলেছিলেন অনেকে। আশাকরি, বিহারের ‘‌ভগ্ন স্বাস্থ্য’‌ দেখেও প্রতিবাদীরা গর্জে উঠবেন।‌ দেশে বিদেশে তোলপাড় ফেলবেন।‌ সোশ্যাল মিডিয়ার বিবেক একইরকমভাবে হবে জাগ্রত। কলকাতার চিকিৎসকের জন্য সেদিন মাথায় হেলমেট, বুকে কালো ব্যাজ পরেছিলেন অনেকে। ঠিক করেছিলেন। এবার বিহারের জন্য কেউ কি কিছু পরবেন?‌ চোখে ক্রোধ আবার দেখতে পাব না?‌ নিশ্চয় পাব। প্রতিবাদীরা ঘর ছেড়ে বেরোবেন নিশ্চয়। নিশ্চয় হবে ধর্না, মিছিল। ১৫৭ জন শিশু তো কম নয়। তাই না?‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top