১৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোট। এবারের লড়াই একটু অন্যরকম। এই প্রথম রাজ্যে বিজেপি ঝাঁপিয়ে পড়েছে। স্বয়ং অমিত শাহ বলছেন, জিতবেন!‌ বিস্ময়বোধক চিহ্ন দিতেই হল। ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখল করবে বিজেপি, ভাবা বড় কঠিন। বিজেপি নেতারা বলছেন, অসমেও কি ভাবা গিয়েছিল?‌ আমরা বলব, হ্যাঁ, কিছুটা ভাবা গিয়েছিল। প্রথমত, কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ছিল প্রবল প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া। দ্বিতীয়ত, অসমে বিজেপি–‌র অস্তিত্ব তিন বছর ধরেই যথেষ্ট টের পাওয়া যাচ্ছিল। তৃতীয়ত, শাসক দল কংগ্রেসকে ভেঙে দেওয়ার কাজে সফল বিজেপি। চতুর্থত, আঞ্চলিক শক্তির সহায়তা ছিল। ত্রিপুরাতেও আঞ্চলিক শক্তির সহায়তা আছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী দল এবার বিজেপি–‌র সঙ্গে। অমিত শাহদের নড়াচড়া শুরু হয়েছে বছরখানেক আগে। দুটি ক্ষেত্রে মিল নেই। সিপিএম তথা বামফ্রন্টে ভাঙন ধরানো যায়নি। এবং, মানিক সরকারের সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া নেই। তবু, কেন ক্ষমতা দখলের আশা?‌ এক, আরএসএস রীতিমতো ছক কষে ত্রিপুরা দখলের লক্ষ্যে বিষাক্ত প্রচার চালাচ্ছে অন্তত দেড় বছর ধরে। কিছু বিষ তো ছড়িয়েছেই। দুই, উত্তর–‌পূর্বের ছোট্ট সুন্দর রাজ্যটাকে দখল করার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ আসছে। যা ত্রিপুরাবাসী কখনও দেখেননি। তিন, এতদিনকার প্রধান বিরোধী শক্তি কংগ্রেস চূড়ান্ত হীনবল। পেছনে আরএসএস, সঙ্গে বিপুল অর্থ, সঙ্গে দলছুট নানা মাপের কিছু নেতা। সুদীপ রায়বর্মনরা, কংগ্রেস বিধায়করা প্রথমে গেছেন তৃণমূলে। তারপর বড় প্রলোভনে বিজেপি–‌তে। সঙ্ঘ পরিবারের রাজনীতি ও ধরনধারণ সম্পর্কে এঁরা অবহিত নন। নির্বাচনে প্রধান দায়িত্বে হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অসমের যে–‌নেতা ভোটের মুখে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি–‌তে গিয়ে এখন উপমুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন আরএসএস–‌প্রধান সুদর্শন বলেছিলেন, ওঁদের প্রধান শক্তি গভীর নীতিগত বন্ধন। ত্রিপুরায় দেখছি, আশ্চর্য রন্ধন। আরএসএস–‌এর সঙ্গে অন্য রাজনীতির লোকেদের মিশিয়ে রন্ধন। সুস্বাদু না হলেও, এই রন্ধনপ্রণালী চমকপ্রদ।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top