২০০৪ সালে পিছিয়ে যাওয়া যাক। সেবার মানুষ অটলবিহারী বাজপেয়ীকে ভোট দেননি, সোনিয়া গান্ধীকেও দেননি। বিজেপি সরকারের কাজের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট পড়েছিল সেবার। ২০১৯ সালের ভোট চলছে সম্পূর্ণ উল্টো খাতে। এবার ভোট মোদিকে পছন্দ বা অপছন্দের। আশ্চর্যের ব্যাপার ভারতীয় জনতা পার্টি এই নির্বাচনে সমূলে উৎপাটিত। সমূলে, এই কারণেই যে, তথাকথিত মার্গদর্শকদের প্রকাশ্যেই আসতে দেওয়া হচ্ছে না। লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলীমনোহর যোশি, শান্তাকুমার, ভুবনচন্দ্র খাণ্ডুরি— বিজেপি–‌র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা আজ গৃহবন্দি। এই বিশাল দেশে যা কিছু ঘটছে, তার কেন্দ্র একমাত্র নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর উপগ্রহ অমিত শাহ। ৬ এপ্রিল ১৯৮০ সালে বিজেপি–‌র জন্ম। তাদের সংগঠনিক ঘোষণাপত্রের ২ নং ধারায় স্পষ্ট করেই ভারতের সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি আস্থার কথা লেখা আছে। লক্ষ্য করুন, বিজেপি–‌র নেতারা এখন প্রতি মুহূর্তে সংবিধান বদলে দেওয়ার হুমকি তোলেন। এবার বিজেপি–‌র সাংগঠনিক সনদের ৪ নং ধারায় আসুন। সেখানে লেখা আছে:‌ ‘‌এই দল হবে জাতীয়তাবাদী, যারা জাতীয় সংহতি রক্ষা করবে। দলের পথ হবে গান্ধীবাদী সমাজতন্ত্রের, মেনে চলা হবে সর্বধর্মসমন্বয়। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণও করা হবে।’‌ চমকে যাওয়ার মতো। গান্ধীবাদী সমাজতন্ত্র!‌ দলের সভাপতিই তো মহাত্মা গান্ধীকে ‘‌চতুর বানিয়া’‌ বলছেন!‌ অন্য ধর্ম সম্পর্কে মোদির ধামাধরা নেতাদের কী ধারণা সেটা দেশবাসীর কাছে এতদিনে জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। মূল কথা অন্য জায়গায়। বিজেপি–‌তে মোদি আর শাহ ছাড়া অন্য নেতা কে বা কারা?‌ কেউ জানে না। অন্য নেতাদের বক্তব্য শোনা হয়?‌ উত্তর একটাই, ‘‌না’‌। বিকেন্দ্রীকরণ চুলোয় গেছে, ক্ষমতার এই নির্লজ্জ কেন্দ্রীকরণ এবং গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই পছন্দের কিছু পুঁজিপতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেই আর, আছে মোদি পার্টি।‌

জনপ্রিয়

Back To Top