মুখ্যমন্ত্রীর আম দরবারে গিয়ে প্রশ্নের উত্তরে একটা প্রশ্ন করেছিলেন উত্তরাখণ্ডের উত্তরা বহুগুণা। একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকার–পোষিত এক স্কুলেই আছেন এই শিক্ষিকা। স্বামী প্রয়াত। সন্তানরা কর্মসূত্রে দেরাদুনে। শিক্ষা দপ্তরের কাছে এক বছর আগেই আবেদন করেছেন, বহুবার গিয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে তাঁকে বদলি করে দেরাদুনের কোনও স্কুলে আনা হয়। নিঃসঙ্গ উত্তরা শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রীর ঢাকঢোল–পেটানো আম দরবারে। হাতজোড় করে বললেন, ‘‌স্যর, আমাকে দেরাদুনে আনার ব্যবস্থা করে দিন। পঁচিশ বছর তো হয়ে গেল, দয়া করে বদলির নির্দেশ দিন।’‌ মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র রাওয়াত অসন্তুষ্ট। বললেন, ‘‌মানে কী?‌ সবাইকেই দেরাদুনের স্কুলে কাজ দিতে হবে নাকি?‌’‌ ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। উত্তরার পাল্টা প্রশ্ন, ‘‌জঙ্গল এলাকার একটা স্কুলেই পঁচিশ বছর ধরে কাজ করে যেতে হবে, এটার মানে কী স্যর?‌’‌ এরপর নির্বিকার থাকা সম্ভব নয়। ব্যবস্থা নিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। দুর্ব্যবহার করার দায়ে সাসপেন্ড করে দিলেন যোগ্য শিক্ষিকাকে। এবং এখানেই শেষ নয়। গ্রেপ্তার করা হল উত্তরা বহুগুণাকে। মিডিয়ার যা কাজ, বা অকাজ, সমালোচনা শুরু হল। এক সাংবাদিক লিখলেন, পঁচিশ বছর রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করার পর দেরাদুনে বদলির আর্জি মঞ্জুর হল না। উল্টে সাসপেন্ড, গ্রেপ্তার। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী দেরাদুনের এক স্কুলেই রয়েছেন বাইশ বছর! স্কুলে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, ছাত্রীরা এই শিক্ষিকাটির ক্লাস করে অনিচ্ছায়, যোগ্যতা নেই। যা উত্তরার আছে। সাসপেনশনের বিরুদ্ধে মামলা করছেন উত্তরা। সন্তানরা জানিয়েছেন, এর শেষ দেখে ছাড়বেন। আপাতত দেশে অলিখিত নিয়ম, বিজেপি–র মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলা চলবে না, শুধু ভাল ভাল কথা বলতে হবে। বেশ। বলাই যায়। যেমন, আমরা বলতে পারি, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা সংবাদপত্রটির সম্পাদককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেননি মুখ্যমন্ত্রী, মহত্ত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ!‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top