সবারই মনে আছে দার্জিলিঙে তাঁর সভায় যখন কয়েকজন ‘‌উই ওয়ান্ট গোর্খাল্যান্ড’‌ পোস্টার দুলিয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, ‘‌প্রয়োজনে আমি কিন্তু রাফ অ্যান্ড টাফ।’‌ আবার বিনয় গুরুংরা ব্যাপক গন্ডগোল বাধালেন দার্জিলিঙে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিন। পাহাড় উত্তপ্ত থাকল কিছুদিন। আগুন লাগানো হল সরকারি অফিসে, টয়ট্রেন স্টেশনে, বহু দোকানে। যেন মুক্তাঞ্চল!‌ কয়েক মাস পরই পুজোর ছুটি, তবু পর্যটকরা যেতে পারলেন না। মুখ্যমন্ত্রী চুপ করে বসে থাকেননি। ‘‌রাফ অ্যান্ড টাফ’‌ প্রয়োজনে কিছুটা হলেন। পাশাপাশি চলল উন্নয়নের কাজ এবং রাজনৈতিক তৎপরতা। এক বছরের মধ্যে পরিস্থিতি পাল্টে গেল। বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা পলাতক, দিল্লিতে বিজেপি–‌র দেওয়া গোপন ডেরায়। পাহাড়ে ঢোকাই বন্ধ হয়ে গেল। জিটিএ–‌র অস্থায়ী পর্ষদ গড়া হল বিনয় তামাংয়ের নেতৃত্বে। স্বাভাবিক জীবন ফিরে এল। অবস্থা কতটা পাল্টে গেছে, ভাবলে অবাক হতে হয়। লোকসভা ভোটে দার্জিলিং আসনটা বিজেপি–‌র হাতে থেকে যাওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা নেই। মিরিকে পুরসভা বোর্ড গড়েছে তৃণমূল, অন্য তিন পুরসভাতে বেশ ভাল ফল, তবু মমতা পাহাড়ের দলগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কলকাতার নগরপালের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে মমতা ধর্নায় বসার পর মিছিল দেখা গেল পাহাড়ের চার মহকুমাতেই। দায়সারা নয়, প্রাণবন্ত মিছিল। উল্লেখযোগ্য, মোর্চার বিনয় তামাংরা যখন ঘনিষ্ঠ সঙ্গী তখনও জিএনএলএফ–‌কে গুরুত্ব দিয়েছেন মমতা। ফলে, তেমন রাজ্য–‌বিরোধী শক্তি আর মাথাচাড়া দিতে পারেনি। ৪ ফেব্রুয়ারি চারটি মিছিল বুঝিয়ে দিল, পাহাড় আর বিচ্ছিন্ন নয়। বাংলার নিশ্চিত অবিচ্ছেদ্য অংশ। অভূতপূর্ব সাফল্য রাজনীতিক ও প্রশাসক মমতা ব্যানার্জির। অনেক অনেক বছর পরে রাজ্য রাজনীতির মূলস্রোতে ফিরল পাহাড়।    ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top