এদেশে আশ্চর্য ঘটনা ঘটেই চলে, এখন আরও ঘনঘন ঘটছে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে ভালবাসার অপরাধে জীবন দুর্বিষহ হল এক তরুণীর, শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা। প্রায় একই সময়ে যা ঘটল উত্তরাখণ্ডে, তা এদেশের পক্ষেও চরম অস্বাভাবিক। হলদোয়ানির ব্যবসায়ী প্রকাশ পান্ডে। প্রথমে বিমুদ্রাকরণ, তারপর তড়িঘড়ি জিএসটি চালুর জেরে বিপর্যস্ত। একটু স্বস্তি খুঁজতে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী রাওয়াতকে। জানিয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ককে, যা অবস্থা, হয়তো তাঁকে আত্মঘাতী হতে হবে। কিছুতেই ফল না–‌পাওয়ায় হাজির হয়ে যান বিজেপি–‌র দপ্তরে। তাঁর দুর্গতির কথা বলতে থাকেন। দলের দপ্তরে তখন ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল। শুনতে শুনতেই বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। গাড়ি রেডি। বিপর্যস্ত ব্যবসায়ী প্রকাশ পান্ডে মন্ত্রীর সামনেই বিষ পান করেন। লুটিয়ে পড়েন সেখানেই। দরদি মন্ত্রীমশাই প্রকাশকে হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলে চলে যান জরুরি কাজে বা অকাজে। কৃষিমন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল সেদিন অনেক কাজকর্ম সেরে বা না–‌সেরে বাড়ি ফিরে গেছেন। নৈশাহার, নিদ্রা, কিছুরই ব্যাঘাত ঘটেনি। কিন্তু প্রকাশ পান্ডের মৃত্যু হল। উত্তরাখণ্ডের ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। ক্ষোভ ছিটকে বেরিয়েছে প্রকাশ্যে। ব্যবসায় বিপর্যস্ত হলেই আত্মঘাতী হতে হবে, তা নয়। লড়াই করে যেতে হবে। প্রকাশ পান্ডের অবস্থা নিশ্চয় শোচনীয় ছিল। প্রতিবাদ, ক্ষোভের মুখে রাজ্য বিজেপি যে–‌বিবৃতি দিল, তার তুলনা নেই। ছড়ানো হল এই কথা, যে, ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যার জেরেই আত্মহত্যা, এর সঙ্গে নোটবন্দি বা জিএসটি–‌র কোনও সম্পর্ক নেই। আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আরও ভয়ঙ্কর:‌ বিজেপি–‌কে বিব্রত করতেই, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই এই আত্মহত্যা!‌ ভাবুন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এক ব্যবসায়ী সরকারকে চিঠি লিখলেন, শাসক দলের দপ্তরে গিয়ে নিজের কথা বলতে চাইলেন, বিষ খেলেন, নিজের মৃত্যু ডেকে আনলেন। এমন প্রতিক্রিয়া যে–‌নেতাদের, তাঁরাও তো মানুষ। কে জানে!‌  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top