ভারতীয় সিনেমার সর্বকালের সর্বাধিক জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন, শ্রীদেবীর আকস্মিক প্রয়াণ অবশ্যই দুঃখজনক, সবার কাছে। শুধু হিন্দি নয়, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম ছবিতেও অবিস্মরণীয় কাজ করেছেন। শুরু শৈশবে, কুড়ি বছর বয়সেই ভারতবিখ্যাত। আকস্মিক মৃত্যুর পরদিন খবরের কাগজে, টেলিভিশনে শ্রীদেবীর কাজ ও গ্ল্যামার নিয়ে অনেক কথা। কিন্তু, পরদিন যখন দুবাই পুলিস জানাল যে, পেটে অ্যালকোহল ছিল, বাথটবে ডুবে মৃত্যু হয়েছে, আমাদের খারাপ দিকটা বেরিয়ে এল। মনে হয়, অকাল‌মৃত্যু যাঁর, তিনিই সবচেয়ে বেশি ‘‌আক্রান্ত’‌।‌ কী কী শোনা গেল, পড়া গেল?‌ এক, নিজেকে পঞ্চাশেও তন্বী রাখার জন্য ৫১ বার সার্জারি করিয়েছেন শ্রী। কবে কোন অনুষ্ঠানে তাঁর চোখ অস্বাভাবিক ম্রিয়মাণ দেখিয়েছে, কবে ঠোঁট অতিরিক্ত ফোলা, রীতিমতো গভীর আলোচনায় নেমে পড়লেন বিশেষজ্ঞরা। বয়স বাড়লেও তারুণ্য ধরে রাখার চেষ্টায় কীভাবে নিজের বিপর্যয় ডেকে এনেছেন নায়িকা, প্রচুর কথা শোনা গেল, যেন আলোচকরা স—ব জানতেন। শোনা গেল, মদে বেঁহুশ হয়েই মৃত্যু। কেউ বললেন, দিনরাত মদ খেতেন শ্রীদেবী। কেউ বললেন, বাজে কথা, মাঝেমধ্যে শুধু একটু ওয়াইন খেতেন। নেশা নিয়ে সাতকাহন। বিস্তর গোলমেলে ওষুধ খেতেন বলেই নাকি অকালপ্রয়াণ। পরিচালক রামগোপাল বর্মা সরাসরি লিখছেন, মিষ্টি হাসির আড়ালে বরাবরই চরম হতাশা গোপন করেছেন নায়িকা। তাঁর জীবন সুখের ছিল না। সুব্রহ্মণ্যম স্বামী তো বলিউডের দাউদ–‌যোগের কথাও বললেন। ‘‌সদমা’‌ ছবিতে কমল হাসনের সঙ্গে কী দুর্দান্ত অভিনয় করে গেছেন, তার আলোচনা নেই। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’‌–‌র মতো অনেক ছবিতে তাঁর কমিক টাইমিং  একেবারে সর্বোচ্চ পর্যায়ের, তা নিয়ে কথা নেই। দীর্ঘ বিরতির পর, এক সাধারণ মধ্যবয়সি মহিলার ভূমিকায় কী দুর্ধর্ষ অভিনয় করেছেন ‘‌ইংলিশ ভিংিলশ’‌ ছবিতে, তা নিয়ে মুগ্ধতা নেই। শ্রীদেবীকে যেন মনে রাখতে হবে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্যই।

জনপ্রিয়

Back To Top