রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বিক্রি করতে উঠেপড়ে লেগেছে মোদি সরকার। বিলগ্নি যেন সর্বরোগহর বটিকা‍‌!‌ আমাদের প্রশ্ন, বেচতে চাইলেও কিনবে কে?‌ সবার আগে মোদিকে ঘোষণা করতে হবে যে ওইসব ব্যাঙ্ক অনুৎপাদক সম্পদের ভারে ডুবতে বসেছে। সেটা বলার সৎসাহস নেই, বস্তুত অর্থনীতির এই চরম দুর্দশার দায় নেওয়ার মতো রাজনৈতিক বুকের পাটাও নেই। হিসেবের খাতা সততার সঙ্গে তুলে না ধরে অবাস্তব দর হাঁকলে কেউ ওইসব ব্যাঙ্ক কিনবে না। আর বাস্তব ছবিটা তুলে ধরলে আমানতকারীরা দ্রুত সেই ব্যাঙ্ক ছেড়ে চলে যাবেন। তাছাড়া ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে অনুৎপাদক সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা। কোভিডের ধাক্কায় সেই অঙ্কটা অনেকটাই বাড়বে। সেই বিপুল বোঝা নিয়ে কেউ ব্যাঙ্ক কিনবে কেন?‌ এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য ৫০ হাজার কোটি চেয়েছিল সরকার, একজনও সাড়া দেয়নি। মোদি সরকার অর্থনীতি বিষয়টা বোঝে কিনা সন্দেহ। এতদিন ধরে চলেছে ধামাচাপা দেওয়ার খেলা। ব্যাঙ্কের শরীরে ৩ লক্ষ কোটি ‘‌রক্ত’‌ দেওয়া হয়েছে, আপনার–‌আমার রক্ত জল করে উপার্জন করা অর্থ, রোগী কিন্তু বাঁচেনি। দশটি ব্যাঙ্ক মিশিয়ে দিয়ে চারটি হয়েছে, লাভের লাভ কিছুই হয়নি। এ গানের মুন্ডু গিয়ে বসেছে অন্য গানের ঘাড়ে। হিসেব খাতার অঙ্ক এলোমেলো করে দেওয়া হয়েছে। বিলগ্নীকরণের নামে স্রেফ চোখে ধুলো, ৩৭ হাজার কোটি দিয়ে ওএনজিসি–‌কে কিনতে হয়েছে এইচপিসিএল, ফলে নবরত্ন কোম্পানির ভাঁড়ে মা ভবানী। তাছাড়া রানা কাপুর, ছন্দা কোছারদের উদাহরণ চোখের সামনেই রয়েছে, বেসরকারি হাতে থাকা ব্যাঙ্ক তো আরও বিপজ্জনক। সাধারণ মানুষের গচ্ছিত অর্থের কী হবে?‌ ভাবতেই শিউরে উঠতে হচ্ছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top