এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ভাষণে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেন, আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাল পঠনপাঠন ও গবেষণা থাকতে হবে। সেই সঙ্গে থাকা উচিত ইতিবাচক তর্ক–‌বিতর্কের পরিবেশ। সাবালক ছাত্রছাত্রীরা নানা বিষয়ে মত প্রকাশ করবেন, প্রয়োজনে আন্দোলন করবেন, আপত্তির কারণ নেই। সাম্প্রতিক আন্দোলনের দাবি, ছাত্র কাউন্সিল নয়, ছাত্র সংসদই থাকতে হবে। ঘেরাও হয়ে থাকতে হল উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে। আগের দফায় তাঁর নামে আপত্তিকর পোস্টার পড়েছিল। ছাত্রনেতারা বলেন, এই সব পোস্টারের সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। কারা এমন পোস্টার দিল, তা কিন্তু জানা দরকার। এমন অসভ্যতা চলবে না ক্যাম্পাসে, জোরালো আওয়াজ উঠছে না কেন?‌ সম্প্রতি ইতিহাস কংগ্রেসের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এবার কেন্দ্রীয় সরকার কোনও সাহায্য করেনি।

রাজ্য সরকার এগিয়ে এসে ৬০ শতাংশ ব্যয় বহন করেছে। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাদবপুর আমাকে পছন্দ করতে পারে, না–‌ও পারে, কিন্তু আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালবাসি। সেদিনই যাদবপুরকে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সকলেরই খুশি হওয়া উচিত। তৃণমূলের অধ্যাপক ও কর্মী সংগঠন মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফ্লেক্স লাগায়। দেখা গেল, বিকৃত করা হয়েছে ওই ফ্লেক্স, কালি লাগানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে। উপাচার্য নিন্দা করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী সঙ্গত কারণেই ক্ষুব্ধ। ছাত্রনেতারা বলছেন, আমরা করিনি। সেই প্রশ্ন, তাহলে কারা করল?‌ খুঁজে বার করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের, ছাত্র সংগঠকদেরও। ছাত্রনেতারা দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। কেন বুঝবেন না, যারা এই দুষ্কর্ম করল, তারা আসলে কালি মাখিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তির মুখে?‌

জনপ্রিয়

Back To Top