অসমে হয়তো এক অ–‌সম যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এনআরসি–‌র মাধ্যমে ১ কোটি ৩৯ লক্ষ মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ব্যবস্থা চালু। এঁরা সবাই বঙ্গভাষী। অসমে চক্রান্তের ইতিহাস, পরিপ্রেক্ষিত আজকাল–‌এর উত্তর–‌সম্পাদকীয় নিবন্ধে বিস্তারিত লিখেছেন বরাক–‌সন্তান বাহারউদ্দিন। তারপর, শক্তিশালী লেখা তপোধীর ভট্টাচার্যর, যিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য। সঙ্কীর্ণ অসমিয়া আবেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র। রাজ্যে ক্ষমতায় এখন বিজেপি, বাঙালি তথা বঙ্গভাষীদের ছিন্নভিন্ন করার পরিকল্পনায় যাদের উৎসাহের অন্ত নেই। কেন্দ্রেও বিজেপি, চক্রান্তে পাশে দাঁড়িয়ে গেছে রাজ্য সরকারের। বড়ভাই ছোটভাই মিলে বাঙালিদের নাগরিক অধিকারহীন করার নিখুঁত চক্রান্ত। বিশেষত ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কিছু বাঙালি পরোক্ষভাবে মদত দিচ্ছেন। ভাবছেন, বরাক উপত্যকার বাঙালিরা ডুবলে ডুবুক, আমাদের ক্ষতি হচ্ছে না। কেন্দ্র ও রাজ্য, সঙ্গে বঙ্গভাষীদেরই একাংশ। রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। সেই দলের প্রদেশ সভাপতিও বললেন, বঙ্গভাষীদের প্রতিবাদ অর্থহীন, মমতা ব্যানার্জির তীব্র প্রতিক্রিয়া যুক্তিহীন। বরাকবাসীর লড়াইটা কঠিন। অ–‌সম যুদ্ধ। ভাবা যায়, হোমেন বরগোহাঞির মতো বিখ্যাত লেখক–‌সাংবাদিক, যিনি সত্যের পক্ষে নির্ভীক থেকে এসেছেন বহুকাল, তিনিও এবার বলেছেন, অসমের যত সমস্যা ওই বরাক নিয়ে, ছেঁটে ফেলাই ভাল!‌ দুরন্ত জবাব তপোধীর ভট্টাচার্যর:‌ বেশ, তা–‌ই হোক!‌ যদি বরাক অসমের বোঝা হয়ে থাকে, আলাদাই করে দেওয়া হোক, থাকুক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে। ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দিয়ে বাঙালিত্বের মর্যাদা বাড়িয়েছেন বরাকবাসী। লড়াই যতই অ–‌সম হোক, বরাক উপত্যকার সাহসী মানুষ শেষ পর্যন্ত জিতবেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top