ভি কে সিং। যেমন–তেমন মানুষ নন। ছিলেন ভারতের সেনাপ্রধান। বয়স ভাঁড়িয়ে এক বছর বেশি থাকতে চেয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশে পেরে ওঠেনি। কিন্তু, দেশসেবা তিনি করবেনই!‌ তাই ২০১৪ লোকসভা ভোটে বিজেপি–র হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং রাষ্ট্রমন্ত্রীও হয়ে গেলেন। বেফাঁস মন্তব্য করে বার তিনেক ডুবিয়েছেন। তবে নিজে ডোবেননি এখনও। পদে বহাল হয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যথেষ্ট দক্ষ। মসুলে আইএস–জঙ্গিদের হাতে ৩৯ জন ভারতীয়র মৃত্যুর খবর আগে পৌঁছয়নি, তাই সংসদে বলেছিলেন, ওঁরা সম্ভবত বেঁচে আছেন। নিধনের খবর সরকারিভাবে ইরাক থেকে আসার পর সুষমা তা জানান। তুমুল হইচই তখন। ভারত সরকার উদ্যোগ নেয় ৩৯ মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য। মন্ত্রী ভি কে সিং গেলেন ইরাকে। অমৃতসর বিমানবন্দরে নামল বিমান। ছিলেন উদ্বিগ্ন আত্মীয়স্বজনরা। কী করে চলবে সংসার, নিহতরা প্রায় সকলেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। স্বজনহারাদের উদ্বেগের সূত্রে সাংবাদিকরা মাননীয় মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, নিহতদের পরিবারপিছু একজনকে চাকরি দেওয়া হবে তো?‌ বাতানুকূল লাউঞ্জেই রেগে আগুন মন্ত্রী। তাঁর উত্তর:‌ ‘‌চাকরি?‌ এটা কি ফুটবল ম্যাচ?‌’‌ কেন রেগে গেলেন, কেন ফুটবলের কথা তাঁর মাথায় এল, কে জানে। এরপর প্রশ্ন, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি?‌ ভি কে সিং আরও ক্ষিপ্ত। বললেন, ‘‌এটা কি বিস্কুট বিলি নাকি যে, সবাইকে দিতে হবে?‌’‌ ফুটবল!‌ বিস্কুট!‌ বিমানবন্দরে হাজির পাঞ্জাবের মন্ত্রী নভজ্যোৎ সিং সিধু শান্ত করার চেষ্টায় ব্যর্থ। সমালোচনার বান ডাকল। কেন্দ্রীয় সরকার পরদিনই ঘোষণা করল, ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে ক্ষতিপূরণ। সময় খারাপ। ‌জনরোষের এলাকা আর বাড়াতে চাইলেন না প্রধানমন্ত্রী।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top