‌শিক্ষাক্ষেত্রে গেরুয়াকরণের ভয়ঙ্কর চেষ্টা পাঁচ বছর আগে থেকেই স্পষ্ট। বাজপেয়ী জমানায় চেষ্টা করার কথা ভেবেছিলেন মুরলীমনোহর যোশি, আংশিকভাবে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তখন আরএসএস–‌এর কথায় চলতে রাজি হননি। সে জন্য বাজপেয়ীর ওপর ক্ষোভ ছিল সঙ্ঘ নেতৃত্বের, কিন্তু কিছু করার ছিল না। শিক্ষাক্ষেত্রে আক্রমণের বিপক্ষে ছিলেন আদবানিও। ২০১৪ থেকে, গত পাঁচ বছর ধরে শিক্ষায় গেরুয়া আগ্রাসন। পাঠ্যক্রম নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রস্তাব এসেছে, যা শিউরে ওঠার মতো। এরই মধ্যে চলছে শিক্ষাকেন্দ্র দখল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ অনেক দিন ধরেই শক্তিশালী। একদা ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিলেন অরুণ জেটলি। কিন্তু বিরোধী মতও ছিল। বামপন্থীরা কিছুটা, আরও বেশি অস্তিত্ব ধরে রাখতে পেরেছিল কংগ্রেস ছাত্র সংগঠন। এখনও, অধ্যাপকদের মধ্যে অনেকে গেরুয়াকরণের তীব্র বিরোধী। ইংরেজি সিলেবাসে দুটি লেখা রাখা যাবে না, দাবি এবিভিপি–‌র। মানবিকতার কথাই আছে গল্পে, প্রবন্ধে। সভা চলার সময়ে ঘেরাও করল এবিভিপি, হামলা, অধ্যাপকরা কার্যত আক্রান্ত, সিলেবাস পাল্টে দিতে হল। জেএনইউ ছিল বাম চিন্তাভাবনার কেন্দ্র। কিন্তু, বিরোধীদের আক্রান্ত হতে হয়নি। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হননি— এবং অনেকে দেশবিদেশে বড় জায়গায় বিদেশমন্ত্রী, প্রাক্তন বিদেশ সচিব জয়শঙ্কর। জেএনইউ–‌এর এবিভিপি নেত্রী নির্মলা সীতারামন আজ দেশের অর্থমন্ত্রী। সেই বিশ্ববিদ্যালয় আরএসএস–‌এর লোক জগদীশ প্রসাদকে উপাচার্য পদে বসিয়ে শুরু হয় আক্রমণ। এখনও বামপন্থীরা এগিয়ে (‌বিরোধীরাও আছেন)‌, কিন্তু হামলা বাড়ছে। যাঁদের শিক্ষক হিসেবে নেওয়া হচ্ছে, তাঁরা সকলেই গেরুয়াপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয় দখল ছাড়া আর কী?‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top