কৈলাস বিজয়বর্গীয়র কৃপায় আপাত–‌অবহেলিত চিঁড়ে আলোচনাতে উঠে এল। কৈলাসবাবু মধ্যপ্রদেশের নেতা। নাম করেছেন। ইন্দোরের মেয়র পদ থেকে দল যাকে সরিয়ে ছিল কিছু অভিযোগে। তবু, দাপট কমেনি। বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া রাজ্যে পাখা মেলতে দেননি। কৈলাসজি দিল্লিতে তদ্বির করে বেশ আছেন। বিজেপি–‌র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ছেলেকে বিধানসভায় পাঠাতে পেরেছেন। সুপুত্রও খবরের শিরোনামে। ইন্দোর পুরসভা সিদ্ধান্ত নেয়, সব বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। সেই অভিযানে গিয়েছিলেন পুরকর্তারা। আকাশ বিজয়বর্গীয় তেজি। লোকজন নিয়ে বাধা দিলেন। কুকথা, ধাক্কা, তারপর ব্যাট দিয়ে মারলেন পুরকর্তাকে। নরেন্দ্র মোদি সংসদীয় দলের সভায় ঘটনাটির উল্লেখ করে বলেন, এ সব চলবে না। যে এরকম করবে, তার খুঁটি যতই শক্ত হোক, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কী হল?‌ কিছু না!‌ মধ্যপ্রদেশের একাধিক কাগজে বেরোল পুরনো সাদা–‌কালো ছবি। কৈলাসজি জুতোপেটা করছেন পুরকর্তাকে। অপরাধ, বেআইনি সম্পত্তি ভাঙতে এসেছিলেন। মধ্যপ্রদেশের কীর্তিমান নেতা সম্পর্কে আমাদের মাথা না ঘামালেও চলত। কিন্তু, তিনি বাংলায় দলের পর্যবেক্ষক। রাজ্য নেতাদের নেতা। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে কু–‌আইনের পক্ষে সভায় বললেন আপত্তিকর কথা। তাঁর বাড়িতে নতুন একটি ঘর তৈরি হচ্ছিল। দেখলেন, রাজমিস্ত্রিরা শুধু চিঁড়ে খাচ্ছেন। বুঝে গেলেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী!‌ ভারতে চিঁড়ে, পোহা জনপ্রিয় খাদ্য। খোদ প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় খাবার, শোনা যায়। উত্তর ভারতে, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে পোহা, চিঁেড়র পোলাও, নানা পদ দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায়। বাংলাদেশ কেন, দেশে, এই রাজ্যেও যথেষ্ট জনপ্রিয়। দই–‌চিঁড়ে খেয়ে দেখেছেন কৈলাসবাবু?‌ চিঁড়েভাজা, চিঁড়ের পোলাও এখানেও চলে। চিঁড়ে অপেক্ষাকৃত কম দামি, পুষ্টিকর। বাংলাকে না–‌জেনে বাংলায় দলের সুপার–‌লিডার। রাজ্য নেতাদের মুখেও অবিরাম কুকথা। কিন্তু, কুকথায় ভোটের চিঁড়ে ভিজবে না।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top