তাঁকে টিম থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন দেশের বিখ্যাত প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। বিশেষজ্ঞরা বুঝিয়ে বলছিলেন, কেন তাঁর পক্ষে আর সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। টেকনিকে গন্ডগোল, মানসিকতায় ফাঁক, আর চলবে না!‌ অ্যারিস্টার কুক শুনে গেছেন। এজবাস্টনে সেই সেঞ্চুরির পর আর বড় রান পাচ্ছিলেন না। অস্ট্রেলিয়া সফরে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের প্রধান ভরসা ছিলেন অ্যারিস্টার কুক ও জো রুট। রুট তেমন কিছু করে দেখাতে পারেননি, চতুর্থ টেস্ট হয়ে গেল। প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন, একটা যথার্থ বড় ইনিংস অপ্রত্যাশিত জয় এনে দিতে পারত। ব্যর্থ। কুককে সরিয়ে যখন রুটকে অধিনায়ক করা হয়, নির্বাচকরা আশা করেছিলেন, আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে টিমের চেহারা বদলে দেবেন। অপসারিত হয়ে কুক বলেছিলেন, ভাল রান করে টিমকে জেতাতে পারছি না, বোধহয় উদ্বুদ্ধও করতে পারছি না অন্যদের, আমাকে সরিয়ে দিয়ে উচিত কাজ করেছেন নির্বাচকরা। এবার অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম দুই টেস্টে ব্যর্থতার পর প্রাক্তনরা বলতে থাকেন, ঘাড় থেকে এই বোঝাটা কবে নামাবে ইংল্যান্ড?‌ ধীর স্থির কুক জবাবটা দিলেন ব্যাটে। চতুর্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ২৪৪ তাঁকে নিজের আসন ফিরিয়ে দিল। সমালোচকরা মনে রাখেননি, এই টেস্টের আগেই ৩১টি সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন কুক। এখন ৩২। ওপেনার হিসেবে সেঞ্চুরি সবচেয়ে বেশি গাভাসকারের, ৩৩ (‌অপরাজিত ২৩৬ এসেছিল চার নম্বরে নেমে, ভারত ২ উইকেটে ০)‌। আর একটা শতরান করলেই কুক ছোঁবেন সানিকে। আরও একটা হলে ছাড়িয়ে যাবেন। এমন মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে সাধারণত প্রতিক্রিয়া হয় এইরকম:‌ ‘‌প্রমাণ করে দিলাম, শেষ হয়ে যাইনি। উৎসর্গ করছি সমালোচকদের।’‌ না। কুক বললেন, ‘‌নির্বাচকরা আমাকে বসিয়ে দিতেই পারতেন, সত্যিই তো রান পাচ্ছিলাম না। ওঁরা ভরসা রেখে গেছেন বলে আমি কৃতজ্ঞ, হয়তো এতটা ভরসা আমার প্রাপ্য ছিল না।’‌ এই হল জাত ক্রিকেটার। এটাই ক্রিকেট।  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top