আন্তর্জাতিক স্তরে মাঝারি ক্রিকেটার ছিলেন। নাম ছিল লড়াকু হিসেবে। সেই লড়াকু ভাবটাই যে ক্রমশ চূড়ান্ত অসভ্যতার দিকে যাবে, বোঝা যায়নি। ১৯৮১, অস্ট্রেলিয়ায় আহত দিলীপ দোশির জায়গায় দরকার বাঁ–‌হাতি স্পিনার। অধিনায়ক সুনীল গাভাসকার চাইলেন এক ১৮ বছর বয়সিকে, যা নিয়ে প্রাথমিক আপত্তি ছিল নির্বাচকদের। রবিশঙ্কর জয়দ্রথ শাস্ত্রী। পরে অবশ্য বোলার হিসেবে বিশেষ উত্থান ঘটল না, হয়ে উঠলেন মোটামুটি ভাল ব্যাটসম্যান। গাভাসকার সেই পর্বে অনেক সাহায্য করেছেন। শাস্ত্রীমশাই এখন প্রতিদান দিচ্ছেন, অপমানজনক আক্রমণ করে। পার্থ টেস্টে চার পেসার খেলানো ভুল, উচিত ছিল একজন স্পিনারকে নেওয়া, বলাটা ভুল ছিল?‌ ইংল্যান্ডে একটা টেস্টে পুজারাকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সমর্থনযোগ্য?‌ এবার অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ না জিতলে উত্তর চাওয়া উচিত কোচ–‌অধিনায়কের কাছে, বলে ভুল করেছিলেন সানি?‌ এমনিতেই আজকের অস্ট্রেলিয়া দুর্বল, তার ওপর টিমে নেই স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। যেন ভারতীয় দলে নেই কোহলি ও পুজারা। এমন টিমকে অনায়াসে হারানো যাবে না কেন?‌ যাঁর যা স্বভাব, উপকারী গাভাসকারকে ঘুরিয়ে কটুকাটব্য করছেন শাস্ত্রী। ভারতের সর্বকালের সেরা ম্যাচ–‌উইনার অনিল কুম্বলেকে কোচের পদ থেকে সরিয়েছিলেন অধিনায়কের সঙ্গে ছক কষে। গুণের শেষ নেই। এবার সিরিজ জেতার পর সাংবাদিক সম্মেলনে কার্যত বক্তৃতা দিলেন। এতটাও বলে ফেললেন যে, ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বড় সাফল্য এই সিরিজ জয়!‌ অসভ্যতাই নয় শুধু। হাস্যকর। বিশ্বত্রাস ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, ভিভ রিচার্ডস–‌গর্ডন গ্রিনিজ–‌ক্লাইভ লয়েড–ম্যালকম মার্শাল–‌‌অ্যান্ডি রবার্টসদের অজেয় দলকে হারিয়ে ট্রফি পেয়েছিল কপিলদেবের ভারত। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এক ধাক্কায় একশো মাইল এগিয়ে গিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট। দেশে ক্রিকেট ঘিরে তৈরি হল প্রবল উন্মাদনা। বাড়ল ক্রিকেট উৎসাহ। অনেক কিশোর ক্রিকেটে এল। আজ তার ফল পাচ্ছে ভারত। ১৯৮৩ সালে লর্ডসে সেই সূর্যোদয়ের চেয়েও স্মিথ–‌ওয়ার্নারহীন অস্ট্রেলিয়াকে হারানো বড় সাফল্য?‌ আশ্চর্য প্রলাপ।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top