খুব দরকার ছিল। অনেকেই বলেছিলেন, দেখছি, ভাবছি, করছি। এবার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি করে দেখালেন। শিশু পড়ুয়াদের ঘাড় থেকে বইয়ের ভার কমানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। দিয়েছেন একেবারে মূল জায়গায়। সিলেবাসে কমিটিকে বলেছেন, এমন ভাবে এগোতে হবে যাতে কম বই খাতা নিয়ে স্কুলে যেতে পারে ছেলেমেয়েরা। এটাই সঠিক এবং বৈজ্ঞানিক ভাবনা। শিক্ষামন্ত্রী কমিটিকে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন। প্রয়োজনে কিছু সিলেবাস প্রাথমিক থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে উঁচু ক্লাসে। বইকে মাপে ছোট করা যায়, কমানো যেতে পারে কিছু পাতা। বাদ দেওয়া যেতে পারে অনাবশ্যক কিছু ছবি। আনন্দের খবর, স্কুল সিলেবাস কমিটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। সকলেই জানে ব্যাগের বোঝা কী ভয়াবহ জায়গায় চলে গেছে। ছোট ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন সেই বোঝা কঁাধে নিয়ে স্কুলে যায়। শরীরের ক্ষতি, ক্ষতি মনের। ছোটরা জানে, লেখাপড়া কোনও ফুরফুরে, আনন্দের বিষয় নয়। শরীরকে অসুস্থ করে তবে শিক্ষার পাহাড় ডিঙোতে হয়। নরম হাড়ে, পেশীতে বিশাল ওজন পাকাপাকি ভাবে শরীরের ক্ষতি করে চলেছে। ইতিমধ্যে দিল্লি বোর্ড এই বিষয়ে কিছু কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে বলে শোনা গেছে, কিন্তু এই সব বোর্ডের স্কুলের সামনে গেলে কই তেমন কিছু তো চোখে পড়ে না!‌ ছোটরা তো বই খাতা বোঝাই ব্যাগ নিয়ে সেই হাসফাসই করে। নির্দেশ কি তবে খাতায়  কলমেই রয়ে গেছে?‌ কোনও কোনও স্কুল কতৃর্পক্ষ হয়তো ছোটদের এই ভার লাঘব করেছেন, কিন্তু বেশির ভাগই অপারগ থেকে গেছে। তার কারণ সংশোধন হয়নি মূলে গিয়ে। পার্থবাবু সেই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি সিলেবাসের সংস্কার চেয়েছেন। শিক্ষা নিয়ে আন্দোলন কম হয়নি। আরও হয়তো হবে। ছোটদের কঁাধ, ঘাড়, পিঠের জন্য কোনও আন্দোলন হয়নি। এবার হল। আন্দোলন ছাড়া একে কীই বা বলা যায় ?‌ শিশুর কষ্টে মন আন্দোলিত হলে তবেই এই সংস্কার সম্ভব।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top