ত্রিপুরায় সবচেয়ে বড় নির্বাচনী ইস্যু কী?‌ প্রশ্নটা তুলতেই একজন বললেন, ‘‌উত্তর ১০,৩২৩।’‌ মানে?‌ গত বছর মার্চে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ওই সংখ্যার স্কুল শিক্ষকের নিয়োগ রদ হয়েছিল ত্রিপুরায়। শিল্প নেই, ছোট এবং অনুন্নত রাজ্যে সরকারই সবথেকে বেশি কর্মসংস্থান দেয়। ৩৮ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৬ লক্ষ বেকার হিসেবে নথিভুক্ত যে রাজ্যে, সেখানেই নেমে এসেছিল খাঁড়ার ঘা। এই সুযোগে নাক গলিয়েছে বিজেপি, প্রতিশ্রুতির পাহাড় খাড়া করে। চাহিদার ভিত্তিতে চাকরি দিচ্ছিল রাজ্য সরকার, ভিত্তি ছিল মেধা, কোনও লিখিত পরীক্ষা হয়নি। প্রায় লক্ষ কর্মপ্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছিল। যাঁরা চাকরি পাননি, তাঁরা কোর্টে চলে যান নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে। হাইকোর্ট আর সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বক্তব্য ধোপে টেকেনি। এবার বিজেপি এককালীন বিধি শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, শর্ত একটাই, বিজেপিকে আনতে হবে ক্ষমতায়। স্রেফ দরাদরি, চাকরির টোপ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর চলছে ফিসফাস প্রচার। ৩১ জুন ওই ১০,৩২৩ শিক্ষকের চাকরি খারিজ হয়ে যাবে, বাধ্য হয়েই বাম সরকার ১২,০০০ অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর বিরুদ্ধেও মামলা। সুপ্রিম কোর্টে পরের শুনানি ২ জুলাই। ঘটনা এই যে, পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলেছিল, জানিয়ে রাখা ভাল, সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু কোনও দুর্নীতি খুঁজে পায়নি। ত্রিপুরা সাক্ষরতার হারে গোটা দেশের মধ্যে সামনের সারিতে, সরকারি স্কুলের সংখ্যাতেও আগুয়ান। ওইটুকু রাজ্যে ৬৫৫৬ প্রাথমিক আর ৪০০০ উচ্চমাধ্যমিক স্কুল, ঈর্ষণীয় বইকি। প্রতিটি মহকুমায় অন্তত একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আছে, এবার প্রতিটি ব্লকে গড়ার পরিকল্পনাও তৈরি। ফাঁকা পড়ে রয়েছে বহু শিক্ষকের পদ। তবু যাঁরা চাকরি পাননি তাঁদের ঠেলে আদালতে পাঠাল কারা?‌ সুদীপ রায়বর্মনের বই ‘‌আইনি সহায়তা’‌ বিজেপিকে জেতাতে পারবে?‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top