কুৎসিত মন্তব্যের জন্য অতিখ্যাত অনন্ত হেগড়ে। কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ অনেকবার চূড়ান্ত আপত্তিকর মন্তব্য করে অক্ষত আছেন। এবার যা বললেন, ভয়ঙ্কর, সঙ্গে একটা আবিষ্কার আছে। কী বলেছেন?‌ গান্ধীজি যা করেছেন, তা আসলে নকল আন্দোলন। ইংরেজদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে, তাদের অনুমোদনে এবং মদতে আন্দোলন করেছেন। তাঁর ও তাঁদের আন্দোলনের জন্য ব্রিটিশরা দেশ ছেড়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনন্তজির রক্ত টগবগ করে ফোটে, রাগে, যখন গান্ধীকে ‘‌মহাত্মা’‌ বলা হয়। এমন ব্যক্তি ‘‌মহাত্মা’‌ নামে পূজিত হন, দেশের লজ্জা। গান্ধীর সঙ্গে সকলে একমত ছিলেন না। অন্তত দুটি ক্ষেত্রে গুরুতর মতভেদ হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের সঙ্গেও। অহিংস আন্দোলনের পথকে নির্ভুল মনে করেননি অনেকে। তাঁর আন্দোলনে স্বাধীনতা বিলম্বিত হয়েছে, বলেছেন অনেকে। বলতেই পারেন। মত, পথ নিয়ে মতপার্থক্য সুস্থতার লক্ষণ। কিন্তু, গান্ধীর কঠোরতম সমালোচকও কখনও বলেননি, যে, তিনি ইংরেজদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে, ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদনে ও মদতে আন্দোলন করেছিলেন। যিনি সব ক্ষেত্রে একমত ছিলেন না, সেই রবীন্দ্রনাথই ‘‌মহাত্মা’‌ নামে প্রথম ভূষিত করেছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে। খবর, বিজেপি–‌র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নাকি ক্ষুব্ধ। ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কঠোর। সাধ্বী প্রজ্ঞা সাংসদ হওয়ার আগে ও পরে গান্ধী–‌ঘাতক নাথুরাম গডসেকে প্রণম্য বলেছেন। ঘরে ঘরে গডসের পুজো হওয়া উচিত বলেছেন। লোকসভা ভোটের প্রচার করার সময়ে এমন মন্তব্য শুনে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রজ্ঞার মুখ দর্শন করতে চান না। দল বলেছিল, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ দর্শন যথেষ্ট করেছেন। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রেও অনন্ত শাস্তি পাবেন, মনে হয় না। তা, হেগড়ের মন্তব্যের মধ্যে আবিষ্কার কোথায়?‌ আছে। বলেছেন, তথাকথিত স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য নয়, ব্রিটিশরা এদেশ ছেড়েছে হতাশ হয়ে!‌ প্রশ্ন, কীসের হতাশা?‌ মানে কী?‌ আরএসএস–‌এর চরম প্রভুভক্তি সত্ত্বেও ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রাম শক্তিশালী হয়েছে, ওরা কিছু করে উঠতে পারেনি, সেই হতাশায়?‌

জনপ্রিয়

Back To Top