‘‌শঙ্খ ঘোষ একটা ভালো কবি ছিলেন’‌, বললেন অনুব্রত মণ্ডল

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পর অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন, ‘‌এ আবার কোন কবি’‌। সেই শঙ্খ ঘোষ আজ প্রয়াত। তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। স্বকীয় ভঙ্গিতেই বললেন, ‘‌এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। বাংলার কবি ছিলেন। ওঁকে শতকোটি প্রণাম জানাই। শঙ্খ ঘোষ একটা ভাল কবি ছিলেন। ওঁর মৃত্যুতে মর্মাহত হবে বাংলা।’
এখানেই থামেননি নেতা। বললেন, ‘এই মৃত্যু সব মানুষকেই ধাক্কা দেবে। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।’ 
অনুব্রত মণ্ডল আর শঙ্খ ঘোষ— এই দুই বিপরীত মানুষের নাম পাশাপাশি এসেছিল সেই ২০১৮ সালে। পঞ্চায়েত ভোটের সময়। অনুব্রত মণ্ডলের হুঁশিয়ারি ছিল, পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে গেলে ভুগতে হবে। বাড়ি থেকে বেরোলে তাঁরা দেখবেন গলির মোড়ে উন্নয়ন দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর পর বীরভূমের ৪২টি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে ৪১টিতেই মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি বিরোধীরা। এক জনই মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু তিনিও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন।
তখনই শঙ্খ ঘোষ সেই গায়ে কাঁটা দেওয়া কবিতাটি লিখেছিলেন। ‘মুক্ত গণতন্ত্র’‌। লিখেছিলেন, ‘‌যথার্থ এই বীরভূমি, উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে এসে পেয়েছি শেষ তীরভূমি/‌ দেখ খুলে তোর তিন নয়ন, রাস্তা জুড়ে খড়্গ হাতে দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন’‌।
এই কবিতা প্রসঙ্গেই অনুব্রত বলেছিলেন, ‘‌এ কোন কবি? আমরা তো কবি বলতে জানতাম রবীন্দ্রনাথ–নজরুল। এ কোন নতুন কবি উঠে এসেছেন যে, আমার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছেন!’‌ কবির নাম নিয়েও ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি তিনি। বলেছিলেন, ‘‌কবির নাম শঙ্খ রাখা ঠিক হয়নি। শঙ্খ নামের অপমান করেছেন তিনি। এখনও বলছি, রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে।’‌
তবে শাসকদলের বিরুদ্ধে তিনি বারবার মুখ খুলেছেন। এর আগেও। এর পরেও। দিল্লিতে কৃষক আন্দোলন নিয়েও সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি। তখন রোষে পড়েছিলেন বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। তিনি বলেছিলেন, ‘‌এই সব লোকেদের ছবি অনেক দিন আমরা সংবাদমাধ্যমে দেখিনি। তাঁরা ছবি তুলতে চাইছেন! তাঁদের যদি মনে হয়, নতুন কৃষি আইন কৃষক–বিরোধী, পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের কেন রাস্তায় নামার প্রয়োজনীতার কথা বোঝাচ্ছেন না? তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলুন না! দিল্লি গিয়ে ছবি তুলছেন কেন?‌’‌ 

 

 

ছবি:‌ ফেসবুক থেকে