অমর্ত্য সেন মহা অন্যায় করেছেন। দুটো কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। এক, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বাতিল হওয়া উচিত। দুই, জেএনইউ–‌তে হামলা নিন্দনীয়। উপাচার্য কী করছিলেন?‌ পুলিশ কী ব্যবস্থা নিল?‌ শুধু জেএনইউ নয়, আলিগড় ও জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে হামলা করা হয়েছে, সে ব্যাপারেও সোচ্চার তিনি। রাজ্যের বিজেপি নেতারা ফুঁসে উঠলেন। তাঁরা যদি বলতেন যে, অমর্ত্য সেন ভুল বলছেন, তাঁর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়, কিছু বলার ছিল না। বলতেই পারেন। মতপার্থক্য গণতন্ত্রের অপরিহার্য অঙ্গ। অমর্ত্য সেন বলছেন বলেই মেনে নেবে সব দল, কেউ মনে করেন না। সমস্যা হল, বিজেপি নেতারা তাঁর যুক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা যুক্তি দেন না। নীতিগত বিরোধিতা স্পষ্ট করেন না। যা করেন, তা হল ব্যক্তিগত আক্রমণ। ওঁদের অশিক্ষা ও রুচি প্রকাশিত হয়। একইভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণের সামনে পড়তে হয়েছে আরেক নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জিকে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছিলেন, অভিজিৎ বামপন্থী, সুতরাং বর্জনীয়!‌ রাজ্যের এক নেতা বলেছিলেন, বিদেশিনীকে বিয়ে করাটা বোধহয় নোবেল পুরস্কার পাওয়ার একটা শর্ত!‌ এবার, রাহুল সিনহা বললেন, অমর্ত্য সেন অর্থনীতিবিদ, তিনি অর্থনীতি নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দিতে পারেন। তা নয়, ঢুকছেন রাজনৈতিক বিষয়ে। ওঁরা জেনে রাখলে ভাল করবেন, অমর্ত্য সেন শুধু বিশ্ববন্দিত অর্থনীতিবিদ নন, দার্শনিক। এবং একজন সচেতন মানুষ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অগ্রাধিকার, দারিদ্রমোচনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন, বলেছেন। পৃথিবীর বহু দেশ সেই পথে গেছে। যাচ্ছে। রাজনীতি নিয়ে তখনই বলেন, যখন সচেতন মানুষ হিসেবে বলা প্রয়োজন মনে করেন। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বলবেন না?‌ বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃশংস হামলার সমালোচনা করবেন না?‌ গুজরাট গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলেন, মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান না। বলতে পারবেন না?‌  বিষাক্ত বিজেপি নেতারা, দেশের গর্বকে যুক্তিহীন আক্রমণ বন্ধ করুন।  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top