কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, পাসপোর্টের মতো নানা ধরনের কার্ড তুলে দিয়ে এবার একটি পরিচয়পত্র করা প্রয়োজন। সব কাজ নাকি এই কার্ডেই হয়ে যাবে। একটি পরিচয়পত্র থাকলে ডিজিটাল সংযুক্তিতে সুবিধে হবে। আর কোনও দুঃখ–কষ্ট, খিদে, বেকারত্বের জ্বালা, একটার পর একটা কলকারখানা বন্ধ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে চাবির ব্যাপার থাকবে না। ঝটাপট সব হয়ে যাবে। মূল সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের প্রস্তাব অতি চমৎকার। এতদিন ঘাম ঝরিয়ে, রক্ত জল করে যে হাজার কিসিমের কার্ড দেশবাসী বানিয়েছিল, তা ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে গঙ্গার পুণ্য জলে। প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে। সুতরাং আবার নামতে হবে নতুন কার্ড বানানোর কঠোর পরিশ্রমে। দঁাড়াতে হবে লাইনে। লাইন আর লাইন দিতে দিতেই ভারতবাসীর জীবনের একটা বড় সময় চলে গেছে। আরও যাবে। সে ভোটার কার্ড করতে সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়েছে। প্যান কার্ড করতে সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়েছে। রেশন কার্ড করতে সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়েছে। আধার কার্ড করতে সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়েছে। নোট বাতিলের জন্য সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়েছে। পাসপোর্টের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে। এটিএম কার্ডের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে। মোবাইলের সিম কার্ডের সঙ্গে আধার জুড়তে লাইনে দাঁড়িয়েছে। পোস্টাপিসে, ব্যাঙ্কে পেনশন তুলতে লাইনে দাঁড়িয়েছে। স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার কমে যাওয়ায় সেই টাকা তুলে নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছে। একটার পর একটা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বন্ধ হতে অন্য চাকরির জন্য লাইন দিয়েছে। আবার নতুন কার্ডের পরিকল্পনা, মানে আবার লাইন দেবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে জলে দাঁড়িয়ে থাকবে। খিদে পাবে, খেতে পারবে না। খাওয়া আগে না লাইন আগে? রাগ হবে, রাগতে পারবে না। রাগ আগে না লাইন আগে? মাননীয় মন্ত্রী মহাশয়কে অনেক ধন্যবাদ। লাইন ছাড়া ভারতবাসীর অভ্যেস নষ্ট হয়ে যাবে। দেশের মেরুদণ্ডকে ধাপে ধাপে লাইন উপযুক্ত, লাইন নির্ভর করে গড়ে তুলে এই সরকার বিশেষ বুদ্ধির পরিচয় দিচ্ছে। চিন্তা একটাই, ভারতবাসীর পরিচয় কোনওদিন ‘‌লাইনবাসী’‌ হয়ে না যায়।‌

জনপ্রিয়

Back To Top