আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ফের পুরনো কর মামলায় হার ভারতের। অন্যায়ভাবে পুরনো লেনদেনের ওপর কর চাপানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা আদালতে মামলা দায়ের করেছিল কেয়ার্ন এনার্জি। সেই মামলায় রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছেন, কেয়ার্ন সংস্থার ওপর রেট্রোস্পেক্টিভ কর চাপিয়ে বিনিয়োগ সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভঙ্গ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার জেরে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে ভারতকে। 
কর নীতিতে ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি এই রেট্রোস্পেক্টিভ কর আইন নিয়ে এসেছিলেন। এই আইন অনুযায়ী, পুরনো লেনদেনে ওপর কর চাপাতে পারে সরকার। আর তা করতে গিয়েই দু’‌টো বড় মামলায় জড়িয়েছিল ভারত। একটি ভোডাফোনের বিরুদ্ধে, অন্যটি কেয়ার্ন এনার্জির বিরুদ্ধে। গত সেপ্টেম্বরেই হেগ–এর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা আদালতে ভোডাফোনের বিরুদ্ধে রেট্রোস্পেক্টিভ কর মামলায় হার হয়েছিল ভারতের। এবার কেয়ার্ন সংস্থার বিরুদ্ধেও ধোপে টিকল না কেন্দ্রের দাবিদাওয়া। 
বিতর্কের সূত্রপাত ২০০৬–০৭ সালে। সংস্থার অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলাকালীন কেয়ার্ন ইন্ডিয়ার হাতে কেয়ার্ন ইন্ডিয়া হোল্ডিংস–এর শেয়ার তুলে দিয়েছিল মূল সংস্থা কেয়ার্ন ইউকে। এই প্রক্রিয়ায় মূলধনী আয়ের ওপর কর এড়িয়ে গেছে কেয়ার্ন ইউকে, এই অভিযোগে সংস্থার কাছে ২৪,‌৫০০ কোটি টাকার কর দাবি করে আয়কর বিভাগ। কর দিতে অস্বীকার করে ইনকাম ট্যাক্স অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল (‌আইটিএটি)‌ এবং দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে কেয়ার্ন সংস্থা। আইটিএটি–তে চলতে থাকা মামলায় ব্রিটেনের সংস্থা হারলেও দিল্লি হাইকোর্টের মামলা এখনও বিচারাধীন। ২০১১ সালে কেয়ার্ন ইন্ডিয়াকে বেদান্তের হাতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় কেয়ার্ন এনার্জি। কিন্তু ৯.৮% শেয়ার নিজেদের হাতে রেখেছিল সংস্থা। বকেয়া কর নিয়ে আইনি লড়াই চলার মধ্যেই ২০১৪ সালে ওই শেয়ার এবং ডিভিডেন্ড বাজেয়াপ্ত করে আয়কর দপ্তর। তারপরই আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হয় কেয়ার্ন।

জনপ্রিয়

Back To Top