আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মার্চের শেষ থেকে দেশজুড়ে শুরু হয় লকডাউন। চলে টানা এপ্রিল এবং মে। করোনা সংক্রমণ রোখার জন্য ছিল এই পদক্ষেপ। এই সময় ঘরেই ছিলেন দেশের অধিকাংশ মানুষ। ঘরে বসে কোন জিনিসটা বেশি কিনেছেন, কোনটা বাদ দিয়েছেন, তার একটি পরিসংখ্যান সম্প্রতি সামনে এসেছে। মূলত সংস্থাগুলোর বিক্রিবাট্টার হিসেবে থেকেই জানা গেছে এসব তথ্য। 
ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস (‌এফএমসিজি)‌ সংস্থাগুলো লকডাউনের দু’‌মাসে কিছু পণ্যের চাহিদার অদ্ভুত ওঠাপড়া লক্ষ্য করেছেন। দেখা গেছে লকডাউনের দিনগুলোয় পাউরুটি আর জ্যামের বিক্রি বেড়েছে। অথচ কমেছে ফ্রুট কেকের বিক্রি। চাহিদা পড়েছে আইসক্রিমেরও। ভাবা হয়েছিল, স্যানিটাইজারের বিক্রি বাড়বে। মজার কথা, স্যানিটাইজারের থেকে বেশি বিক্রি হয়েছে কীটনাশক। কয়েকটা উদাহরণ এখানে দেওয়া হল:‌
* বেঙ্গালুরুর ব্রিটানিয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাদের তৈরি পাউরুটি, চিজ, রাস্ক বিস্কুটের চাহিদা দারুণ বেড়েছে। অথচ ফ্রুট কেকের বিক্রি কমেছে। কারণ ফ্রুট কেক মূলত স্কুলেই টিফিনে নিয়ে যায় বাচ্চারা। 
* ভারতের বৃহত্তম এফএমসিজি সংস্থা হিন্দুস্তান ইউনিলিভার জানিয়েছে, এপ্রিল থেকে জুন তাদের তৈরি কিসান জ্যাম আর সসের বিক্রি বেড়েছে। লাইফব্যয় স্যানিটাইজার আর হ্যান্ডওয়াশের চাহিদাও বেড়েছে। 
* মুম্বইয়ে স্থিত গোদরেজ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের তৈরি মশা প্রতিরোধক আর কীটনাশকের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষত উত্তর ভারতে বিক্রি বেড়েছে। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া রুখতে মানুষ এসব বেশি করে কিনেছেন। 
* কলকাতা স্থিত আইটিসি জানিয়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে তাদের তৈরি খাবার, আর পরিষ্কার করার পণ্যের বিক্রি বেড়েছে।
* গুরগাঁও স্থিত নেসলের আবার লকডাউনে কফি আর নুডল্‌স বিক্রি বেড়েছে। 
ব্রিটানিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর বরুণ বেরি জানালেন, পাউরুটি আর রাস্কের বিক্রি বৃদ্ধি লাফিয়ে বেড়েছে। সংস্থার তৈরি বাকি সব পণ্যের বিক্রিকে ছাপিয়ে গেছে। চিজের বিক্রিও বেড়েছে। তাঁর মতে বাড়িতে থেকে লোকজন প্রাতরাশ থেকে টিফিন, সবেতেই পাউরুটি খেয়েছেন বেশি। রান্নাবান্নার ঝামেলায় খুব একটা যাননি। 
হিন্দুস্তান ইউনিলিভার–এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর, চেয়ারম্যান সঞ্জীব মেহতা জানালেন, লকডাউনে বাচ্চারা সব বাড়িতে ছিল। তারাই মূলত সস আর জ্যাম খেতে চায় বেশি। ফলে কিসান সস আর জ্যামের চাহিদা বেড়েছে। এপ্রিল থেকে জুন সংস্থার লাভ হয়েছে ১,৮৮১ কোটি টাকা। বিক্রি বেড়েছে হাইজিন, হেলথ আর নিউট্রিশন প্রোডাক্টের। হ্যান্ডওয়াশ উৎপাদন আগের থেকে পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়েছে। আর স্যানিটাইজার উৎপাদন বেড়েছে ১০০ গুণ। তবে রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান বন্ধ থাকায় আইসক্রিমের চাহিজা পড়েছে। 
লকডাউনের সময় নেসলে ইন্ডিয়ার ম্যাগির বিক্রি বেড়েছে ২৫ শতাংশ। ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুরেশ নারায়ণন জানালেন, গ্রামে গঞ্জেও ম্যাগির চাহিদা বেড়েছে। গোদরেজ সংস্থার একজিকিউটিভ চেয়ারপার্সন নিসাবা গোদরেজ জানালেন, লকডাউনের সময় ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মানুষ হাসপাতালে যেতে চাননি। তাই মশা প্রতিরোধক আর কীটনাশকের বিক্রি বেড়েছে।  

জনপ্রিয়

Back To Top