আজকালের প্রতিবেদন, মুম্বই: মাশুল বাড়িয়েও বিশেষ সুবিধা করতে পারবে না ভোডাফোন–আইডিয়া আর ভারতী এয়ারটেল। সরকারকে হয়তো হস্তক্ষেপ করতেই হবে। কারণ, দেশের তিন বড় টেলিকম সংস্থা ঠিক সেই চাপটাই তৈরি করেছে। বল ঠেলে দিয়েছে সরকারের কোর্টে। মনে করছে টেলিকম মহল।
দেশের তিন প্রধান বেসরকারি টেলিকম সংস্থা ভোডাফোন, এয়ারটেল এবং রিলায়েন্স জিও ডিসেম্বর থেকে তাদের মোবাইল পরিষেবার খরচ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। সরকারের কাছে প্রচুর টাকা বকেয়া পড়ে আছে, এই অবস্থায় দাম বাড়ানো ছাড়া ভোডাফোন, এয়ারটেলের অন্তত কোনও উপায় ছিল না। এখনও পর্যন্ত যা জানা গেছে, চলতি মাশুলের ১৫% বাড়াতে পারে এই দুই সংস্থা। কিন্তু এদের থেকে সরকারের প্রাপ্য ৫০ হাজার কোটি টাকা করে, যা তিন মাসের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেক্ষেত্রে ১৫% দাম বাড়িয়েও কূল পাওয়া যাবে না। ফলে সরকারকে কিছুটা ছাড় দিতেই হবে এদের। সেটা কত টাকা হবে, সেটাই এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন।
জিও, ভোডাফোন এবং এয়ারটেল— তিন সংস্থাই যদিও জানিয়েছে, নিজেদের নেটওয়ার্ক খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে বলেই মাশুল বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত। ভোডাফোন ১ ডিসেম্বর থেকে সেই বর্ধিত মূল্য চালু করার কথা ঘোষণাও করে দিয়েছে। মুম্বইয়ের এক লগ্নি সংস্থা, যারা মূলত টেলিকম ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিশেষজ্ঞ, তারা বাজার খতিয়ে দেখে জানাচ্ছে, রিলায়েন্স জিও সম্ভবত ১৪% মাশুল বাড়াবে। সেক্ষেত্রে ভোডাফোন এবং এয়ারটেলও সেই সুযোগটা নিয়ে ওই ১৪–১৫% বৃদ্ধি ঘটাবে তাদের মাশুলে। অবশ্য জিও চলতি বছরেই একবার মাশুল বাড়িয়েছে ঘুরপথে। জিও থেকে জিও সংযোগ নিঃশুল্ক হলেও অন্য মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগের ক্ষেত্রে মিনিটে ৬ পয়সা করে এখনই দিতে হচ্ছে জিও গ্রাহকদের। এবার তারা আরও ১৪% মাশুল বাড়ালে, ওই মিনিটে ৬ পয়সার খরচ হবে বোঝার ওপর শাকের আঁটি।
বলা বাহুল্য যে, এক্ষেত্রে চাপ এসে পড়ছে সরকারের ওপর। বস্তুত সেই কারণেই সঙ্গে সঙ্গে মাশুল না বাড়িয়ে ১৫ দিন পরের তারিখ ঘোষণা করেছে ভোডাফোন, যাতে বলটা সরকারের কোর্টে ঠেলে দেওয়া যায়। যদিও লাইসেন্স ফি এবং মোবাইল স্পেকট্রাম ব্যবহারের চার্জ বাবদ এই তিন টেলিকম সংস্থার সম্মিলিত বকেয়ার পরিমাণ এখন ১.‌৪ লক্ষ কোটি টাকা। মূলত রিলায়েন্স জিও–র সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার জেরে বাকি দুই টেলিকম সংস্থার হিসেবের খাতায় যখন লোকসানের অঙ্ক ক্রমশই বাড়ছে, তখন ওই বকেয়া তিন মাসের মধ্যে সরকারকে মিটিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে বা উপায় যে তাদের নেই, সেটা রীতিমতো স্পষ্ট। কাজেই একদিকে সাধারণ গ্রাহকের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে, অন্যদিকে সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে নিস্তারের রাস্তা খুঁজছে ওই দুই সংস্থা। ভারতের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাই–এর পরিসংখ্যান বলছে, কেবল ২০১৯ সেপ্টেম্বরেই ভোডাফোন–আইডিয়া এবং ভারতী এয়ারটেল ৫০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক খুইয়েছে। অথচ ওই একই সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত সারা দেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা কিন্তু বেড়েছে প্রায় ৩৪ লক্ষ। অর্থাৎ ০.‌২৯% মাসিক বৃদ্ধির হার। ভোডাফোন, এয়ারটেল একজনও নতুন গ্রাহক পায়নি, উল্টে তাদের গ্রাহক চলে গেছে জিও–র হাতে। ওই এক মাসে জিও–র নতুন গ্রাহক হয়েছে প্রায় ৭০ লক্ষ। রিলায়েন্স জিও–র মোট গ্রাহক সংখ্যা তার আগেই ৩৫ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বাজারের ধারণা, চলতি বছরের শেষে সেটা ৪০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। তবে এর মধ্যে সামান্য অস্বস্তি জিও–র জন্যে। এতদিন যে ব্যাপক হারে জিও–র নতুন গ্রাহক বাড়ছিল, সেপ্টেম্বরে এসে সেটা একটু থমকেছে। তার আগে মাসে গড়ে ৮০ লক্ষ নতুন গ্রাহক জিও–র সংযোগ নিচ্ছিলেন। সেটা এক ধাক্কায় ১০ লক্ষ কমে গেছে সেপ্টেম্বরে। ওদিকে, খুব সামান্য হলেও বেড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসএনএলের গ্রাহক সংখ্যা।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top