আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যতই এগোবে, ততই দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যুদ্ধের উত্তাপ বাড়তে থাকবে। যা ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকো মতো প্রগতিশীল দেশের পক্ষে কোভিড পরবর্তী বিশ্ববাজার ধরার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে প্যানআইআইটি ইউএসএ–র একটি ভার্চুয়ান সম্মেলনে এমনটাই বললেন আরবিআই–এর প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। তাঁর সতর্কবাণী, মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক বাজারে সব কিছুই অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় থাকবে। তাই শুধু অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনই নয়, তার পুনর্বিন্যাসও দরকার।
রাজন বলেন, ‘‌আমেরিকায় বিশাল রিক্ততা আসতে চলেছে এবং সম্ভবত ইওরোপেও, আমাদের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে হবে, সম্পদকে পুনর্স্থাপন করতে হবে, মূলধনের কাঠামোকেও পুনর্গঠন করতে হবে।’‌ প্রেসিডেন্‌শিয়াল ভোটের আগে আমেরিকা এবং চীন নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যিক লড়াই বাড়ালে ভারত, ব্রাজিলের মতো যে দেশগুলির অর্থনৈতিক বাজার সম্প্রতি উঠে আসছে সেই দেশগুলির পক্ষে এই সুযোগ অত্যন্ত কার্যকরী। কারণ এই দেশগুলিকেও তাদের কোভিড পরবর্তী অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনে একাধিক কাজ করতে হবে, বলছেন রাজন। তাঁর পরামর্শ, এজন্য ডিজিটাল পরিষেবা ক্ষেত্র, পণ্য এবং পরিষেবা ক্ষেত্র সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের জোর কায়েম করতে হবে এই দেশগুলিকে।
তবে একইসঙ্গে রাজন কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, যেহেতু ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকোর মতো দেশগুলিতে লকডাউন সত্ত্বেও কনটেইনমেন্ট হয়নি সেভাবে, তাই এই প্রক্রিয়ায় যে দেশগুলি সাফল্য পেয়েছে, সেই দেশগুলির তুলনায় এই দেশগুলিকে ভাইরাস সংক্রমণের মূল্য চোকাতে হতে পারে। আর যেহেতু ভারত বা আমেরিকায় এখনও বিশাল হারে সংক্রমণ বাড়ছে। সেক্ষেত্রে ফের লকডাউন হবে কিনা তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা যদি দোলাচলে ভোগেন, তাহলে তাঁদের পক্ষে একটা অনিশ্চয়তার জায়গা তৈরি হতে পারে। যা অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনে মোটেও সহায়ক হবে না।
রাজন মনে করেন, মহামারীর পর কর্মদক্ষতাতেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। কারণ উন্নত দেশগুলিতে ৪০–৫০ শতাংশ কর্মী লকডাউনে বাড়ি বসেই কাজ করেছেন। কিন্তু উন্নতিশীল এবং গরিব দেশগুলিতে এই হার এখনও অনেক কম। ফলে সেই সব দেশগুলিতে কর্মসংস্থানের অভাবের সঙ্গেই প্রকট হয়েছে অন্নসংস্থানের অভাবও। যা এই সব দেশগুলির একটা বড় দরিদ্র অংশকে দারিদ্রসীমার তলায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এর ফলে ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি একধাপে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এমনকি আগে ব্যাঙ্কগুলিতে যে অশোধনীয় ঋণ ছিল, মহামারীর পর তা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে যা সমাধান করা ব্যাঙ্কগুলির পক্ষে চরম অসুবিধাজনক হতে পারে। মনে করছেন  আরবিআই–এর প্রাক্তন গভর্নর। 

জনপ্রিয়

Back To Top