Union Budget 2022-23:‌ নজরে থাকবে কী কী? আসুন জেনে নিই.‌.‌.‌

সুশান্ত সান্যাল:‌ আগামী দু’‌ মাসের মধ্যেই পেশ হবে জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩।

পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মধ্য অক্টোবরেই। প্রত্যেকের কাছে সুযোগ আছে, পোর্টালে গিয়ে তাঁদের অনুরোধ বা মতামত জানানোর। শিল্পমহলের সঙ্গে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীও দেখা করছেন তাবড় শিল্পপতিদের সঙ্গে, নেওয়া হচ্ছে মতামত। প্রথমিকভাবে কোভিড সামলে ওঠা, অর্থনীতির বিপরীত ধাক্কা (প্রথম দুই ত্রৈমাসিক ফলাফল), জিডিপির কিছুটা হলেও বৃদ্ধি, কৃষি বিকাশের পথ, জাতীয় নিরাপত্তা, গরিবি দূরীকরণ, বেকারত্ব, কোভিড পরবর্তীকালে বিভিন্ন দেশের পরিবর্তিত বিদেশনীতি ইত্যাদি জটিল বিষয়গুলো মাথায় রেখে এবারের জাতীয় বাজেটের রূপ রেখা নির্ধারণ করা যথেষ্ট উদ্বেগের, বলছে বিশেষজ্ঞমহল।তবুও বিশিষ্টজনদের মতামতের ভিত্তিতে দেখে নেওয়া যাক, এবারের জাতীয় বাজেটে কোন কোন বিষয় নজরে থাকবে;
 ০১. CII ( Confederation of Indian Industry) এর আর্জি, বিনিয়োগের অভিমুখ হোক এই বাজেটে দেশের পরিকাঠামো উন্নতির জন্য। তাদের মতে, কোভিড পরবর্তীকালে অর্থনীতি যখন শক্তিশালী হওয়ার পথে, সেই মুহূর্তে সরকারের উচিত আরও বেশি করে মুলধন বিনিয়োগের মাধ্যমে উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তুলে অর্থনীতিকে মজবুত করা। সরকারের ইচ্ছেও তাই। দেশের রাস্তা, হাইওয়ে, রেলওয়ে, পাওয়ার, টেলিকম, পেট্রলিয়াম ও ন্যাচারাল গ্যাস ইত্যাদি বিষয়ে সরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। 
০২. অতিমারির প্রকোপ থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়েছে অর্থনীতি। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী আভাস দিয়েছেন, যে এবারের বাজেট হবে অনেক বেশি সামাজিক। সরকারের লক্ষ্য দু’‌টো প্রকল্পে জোর দেওয়া, ‘‌গরিব কল্যাণ’‌ আর ‘‌আত্মনির্ভর ভারত’‌। কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে মানুষকে স্বনির্ভর করা আর আরও বেশি করে কর্মসংস্থান তৈরি করা। সুতরাং আশা করা যায়, কোভিড বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সমাজিক বিষয় বাড়তি গুরুত্ব পাবে আর এই খাতে খরচ হবে অনান্য বারের তুলনায় অনেক বেশি।
 ০৩. আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রায় সমস্ত উন্নত দেশের প্রধান ব্যাঙ্কগুলো অর্থ জোগানের ওপর ব্যপক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। কারণ পৃথিবী জুড়ে মুদ্রাস্ফীতি, যা নিয়ন্ত্রনে না আনতে পারলে ঘটতে পারে বিশ্বজুড়ে মন্দা। তাই এর প্রভাব কিছুটা হলেও পড়বে এবারের বাজেটে। 
০৪. অর্থনৈতিক সমালোচকদের মতে বহুদিন দিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে হোমলোন–এর প্রিন্সিপাল আর সুদের ওপর কর ছাড়ের পরিমাণ বৃদ্ধি। যেহেতু এর শেষ বৃদ্ধি ঘটেছিল ২০১৪ সালে, উচ্চসীমা ছিল ১.৫০ লক্ষ টাকা। তাই আশা করা যায়, এবারের বাজেটে বাড়তে পারে ঊর্ধ্বসীমা।
 ০৫. ছোট-মাঝারি (MSME) শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের মধ্যে প্রায় ১২ কোটি মানুষ রোজগার করেন এই শিল্প থেকে, শুধু তাই নয় আজকের দিনে ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় ৪৮ শতাংশ জোগান আসে এই MSME থেকে। এই ক্ষেত্রের জোরালো দাবি, বিভিন্ন সরকারি নীতির সরলীকরণ, কারণ ব্যবসায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই জটিল নিয়ম-কানুন। তাই এই বিষয়টি সরকার ভাববে, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিভিন্ন কাঁচা মালের ওপর জিএসটি কমানোর এবং  ব্যবসায়িক ঋণের  সরলীকরণের দাবিও জানানো হয়েছে। 
০৬. সরাসরি কর (Direct Tax)  ব্যবস্থায় আসতে পারে পরিবর্তন। সূত্র অনুযায়ী, সরকার এবার বদলে দিতে পারে কর ছাড় বা ইনসেন্টিভ এর মত বিষয়গুলো। অর্থ দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, “it will also rationalise the rate of tax. The Finance Ministry seeks suggestions on providing compliance relief, ensuring tax certainty, and reducing litigations.”
 ০৭. এখনও দেশের প্রচুর সংখ্যক মানুষ রয়েছেন, যাঁদের ভ্যাক্সিন নেওয়া বাকি। সরকারের নজর সে দিকে অবশ্যই থাকবে, তাই এই স্বাস্থ্য খাতে খরচ হবে অনেক বেশি পরিমাণ টাকা। নতুন প্রজাতির সংক্রমণ বাড়াচ্ছে চিন্তা। তাই অপেক্ষাকৃত বেশি বরাদ্দ থাকবেই। সাথে সরকার চাইছে স্বাস্থ্য খাতে ১০০ শতাংশ বীমা সুরক্ষা। ফলে বীমা ব্যবস্থায় আসবে নতুন জোয়ার, হয়তো বাড়বে বিনিয়োগ। 
০৮. অটো সেক্টরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু দাবি জোরাল হচ্ছে, কারণ এই মুহূর্তে বিশ্বের সবথেকে বেশি নজরে এই শিল্প, ভারতের ক্ষেত্রেও এর উন্নতি লক্ষণীয়। দেশের রপ্তানিতেও এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করছে এই শিল্প। এর উন্নতিতিতে সরকারের বিশেষ নজর থাকবে এবাবের বাজেটে, এ কথা বলা যায়। 
০৯. এবারের বাজেটে বিশেষ নজর থাকবে সরকার পরিচালিত বাঙ্কগুলোর ওপর। বর্ধিত NPA ( Non Performing Asset) থেকে কিছু মুক্তি মিলছে বলছে তথ্য। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে সরকারি ব্যাঙ্কগুলোর মোট  NPA পরিমাণ ছিল ৭,৩৯,৫৪১ কোটি তা ২০২০ সালের মার্চ মাসে এসে দাঁড়ায় ৬,৭৮,৩১৭ কোটি আর মার্চ ২০২১ সালে সেটা এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,১৬,৬১৬ কোটিতে। এদিকে সরকারি বাঙ্কগুলোর নিট মুনাফাও বেশ ভাল জায়গায় দাঁড়িয়ে। তাই সাধারণভাবেই সরকার এবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারে এবারের বাজেটে, আশা করছেন বিশেষজ্ঞমহল।
 ১০.পৃথিবীজুড়ে মহামারির আবহে সবচেয়ে আতঙ্কিত শ্রমবাজার। ILO (International Labor Organisation ) তাই সব দেশকেই এ বিষয় সতর্ক করছে বারে বারে। তথ্য বলছে, যে শুধু মাত্র ২০১৯ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বে কাজ হারিয়েছেন প্রায় ৮১ মিলিয়ন মানুষ। কোভিড পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিভাবে মোকাবিলা করা যাবে চলছে নানান আলোচনা। EPFO (Employees Provident Fund Organization ) বিভিন্ন নিয়ম কানুন চলতি বছরেই পরিলক্ষিত হয়েছে। সাধারণের কথা মাথায় রেখে মেম্বারদের ক্ষেত্রে টাকা তোলার নিয়মেও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে ২.৫ লাখ টাকার ওপরে সুদের ক্ষেত্রে যে কর ধার্য করা হচ্ছে, তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে Voluntary Contributor–দের ক্ষেত্রে, কারণ তাঁরা সরে আসতে পারেন NPS ( National Pension Scheme ) এ, কারণ কর সাশ্রয়, এটাও ভাবাচ্ছে। তাই সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, এবারের বাজেটে সেদিকে নজর থাকবে শ্রম মহলের।

আকর্ষণীয় খবর