আজকালের প্রতিবেদন: ‌‌‌‌‌‌‌‌রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী বালুচরি, শান্তিপুরি এবং ধনেখালি শাড়ির জিআই রেজিস্ট্রেশন পাওয়া গেছে। রাজ্যের তাঁত শিল্পীদের অসামান্য কাজ ফুটে ওঠে এই শাড়িগুলিতে। অর্থমন্ত্রী এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের মন্ত্রী ডঃ অমিত মিত্র মঙ্গলবার বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে একথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে তাঁত শিল্পীদের জন্য নানান ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‌এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবে রূপায়ণ করার ফলে ৫ কোটি ৮৩ লক্ষ অতিরিক্ত শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে। তন্তুজের বিক্রি ২০১৮–১৯ আর্থিক বছরে ২৫২.‌৫৮ কোটি টাকা হয়েছে। ২০১০–১১ সালে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ৫৫ কোটি টাকা। চলতি আর্থিক বছরে সংস্থা লাভ করেছে ১৪.‌৩৭ কোটি টাকা। ২০১০–১১ আর্থিক বছরে তন্তুজের লোকসান হয়েছিল ১২.‌৬০ কোটি টাকা। কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে বালুচরি শাড়ি বিক্রির জন্য একটি শোরুম চালু হয়ে গেছে।’‌ বিধানসভায় এদিন তাঁত শিল্প বাঁচানোর বিষয়ে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। ডঃ অমিত মিত্র বলেন, ‘‌রাজ্য সরকার হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার উন্নয়ন প্রকল্প করেছে। এখন ৮৪ হাজার ৫৬৪ জন তাঁত শিল্পীকে ১৭৬টি ক্লাস্টার উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ক্লাস্টার প্রকল্পের সংখ্যা ৮ বছরে ৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে ছিল ২৮টি ক্লাস্টার। ২৩টি সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। ১,‌০২,০০০ জন তাঁত শিল্পীকে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১,০৮,০০০ জন তাঁত শিল্পীকে নতুন পিটলুম বা ফ্রেমলুম দেওয়া হয়েছে। তাঁত শিল্পীদের তাঁতবস্ত্র বিপণনের সুবিধের জন্য রাজ্য ৪টি সুসংহত তাঁতের হাট করেছে। ১ লক্ষ ৫০ হাজার তাঁত শিল্পী উপকৃত হচ্ছেন। তাঁত শিল্পীদের জন্য ৬ হাজার ৩০০টি তাঁতঘর করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫ হাজার তাঁত শিল্পীদের জন্য তাঁতঘর তৈরির করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের ১ হাজার ৮০০ জন তাঁতশিল্পীকে নিয়ে বালুচরি শাড়ির জন্য পুনরুজ্জীবন প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে।’‌ অর্থমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার সময় অধ্যক্ষ বিমান ব্যানার্জি বলেন, ‘‌বাংলার রসগোল্লাও জিআই তকমা পেয়েছে।’‌ অর্থমন্ত্রী তখন জানান, রসগোল্লা ছাড়াও ফজলি, হিমসাগর, লক্ষ্মণভোগ আম, তুলাইপঞ্জি, গোবিন্দভোগ চাল, জয়নগরের মোয়া, বর্ধমানের সীতাভোগ, মিহিদানা, বাংলার ডোকরা, পটচিত্র, পুরুলিয়ার ছৌ নাচ, কুশমণ্ডির কাঠের জিনিস, মাদুরকাঠি জিআই লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দার্জিলিঙের চা, শান্তিনিকেতনের চর্মশিল্প, নকশিকাঁথা, বাঁকুড়ার টেরাকোটাও জিআই রেজিস্ট্রেশনের তালিকায় রয়েছে। বাম বিধায়ক নগেন্দ্রনাথ রায় দিনহাটার পুণ্ডিবাড়ির কথা উল্লেখ করেন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top