আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ কর্মসংস্থান তৈরি করে বাজারে চাহিদা বাড়ানোই লক্ষ্য কেন্দ্রের। পরিকাঠামো এবং নির্মাণের মতো শ্রমনির্ভর শিল্পের জন্য চলতি বছরের সেপ্টেম্বর–অক্টোবর নাগাদ ফের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে সরকার, সূত্রের খবর। গ্রামাঞ্চলে মনরেগা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি লকডাউনে গ্রামে ফিরে যাওয়া পরিযায়ীদের ফের শহরে নিয়ে এসে আবাসন এবং নির্মাণ শিল্পকে চাঙ্গা করতে চাইছে কেন্দ্র, জানাচ্ছে সূত্র।    
চাহিদা ঘাটতির জেরেই দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় মন্দা দেখা দিয়েছে, বারবার বলছেন অর্থনীতিবিদরা। মে মাসের আর্থিক প্যাকেজে জোগানের সুতো শক্ত হলেও অর্থনীতির কলকব্জা এখনও মজবুত হয়নি। উৎপাদিত পণ্যের মজুত বাড়ছে মানেই চাহিদার সুতো ছিঁড়ে গেছে, বলছেন অর্থনীতিবিদ এবং নীতি আয়োগের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগারিয়া। তাঁর বক্তব্য, অর্থনীতি এখন যখন একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, তখন বাজারে চাহিদা বাড়াতে ‘‌আর একটু’‌ টাকা খরচ করুক সরকার। নগদ অনুদানের পক্ষে সওয়াল করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও। প্রায় ২১ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজে জিডিপি–র মাত্র ১.‌৪% অর্থ নিজের ভাঁড়ার থেকে দিয়েছে সরকার। বাকি সবটাই ‘‌গ্যারান্টি’!‌ ফলে মানুষের হাতে নগদ টাকা বিশেষ পৌঁছায়নি। এখন তাই কেন্দ্র চাইছে, মন্দার জেরে ধুঁকতে থাকা শ্রমনির্ভর উৎপাদন–খনি–খুচরো ব্যবসা–পরিকাঠামো এবং নির্মাণ শিল্পের পায়ের জমি শক্ত করতে। পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাওয়ায় শ্রমিকের অভাবে এই শিল্পগুলি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তাই এই শিল্পগুলিকে নগদ নিরাপত্তা দিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরানোকেই এখন পাখির চোখ করেছে সরকার। গ্রামাঞ্চলে মনরেগার কাজে জোর দিতে ইতিমধ্যেই বাজেট বরাদ্দ ৬১,‌৫০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে প্রায় এক লক্ষ কোটি করা হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও ফল মিলেছে। গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে গ্রামে বেকারত্বের হার ৭.‌৭৮% থেকে কমে ৬.‌৩৪% হয়েছে।
এদিকে রাজকোষ ঘাটতি নিয়েও বেশ চিন্তিত সরকার। বাজেট লক্ষ্যমাত্রা যেখানে জিডিপির ৩.‌৫% ছিল, চলতি অর্থবর্ষের শেষে তা ৭% ছুঁতে পারে। করোনা সঙ্কটের জেরে সরকারের ব্যয় যে পরিমাণে বেড়েছে, আয় কিন্তু বাড়েনি। জিএসটি বাবদ অনেক ক্ষতি হয়েছে সরকারের। মোট উৎপাদনের সাপেক্ষে ঋণের বোঝাও ৭২% থেকে বেড়ে ৮৫% হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। অনেকে বলছেন, এখন বাজেট ঘাটতির কথা ভাবলে চলবে না। গরিব মানুষের হাতে নগদ পৌঁছে দিয়ে কীভাবে চাহিদা বাড়ানো যাবে, এখন সেটাই ভাবা জরুরি। অনেক মূল্যায়ণকারী সংস্থা রাজকোষ ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমাণ ঋণের বোঝা নজরে রেখে পূর্বাভাষ দিচ্ছে, দেশের অর্থনীতির বহর চলতি বছরে ৫–৭% সঙ্কুচিত হতে পারে। যদিও অর্থনীতিবিদ রঘুরাম রাজন ওই পূর্বাভাষে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। মনমোহন সিং–ও বলছেন, ধার করে যদি আর্থিক বৃদ্ধি তরাণ্বিত করা যায়, তাহলে সেটাই করা উচিত। তাই সব দিক সামলেই অর্থনীতির হাল ফেরানোই এখন কেন্দ্রের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।  ‌   ‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top