আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ লকডাউনে মার খেয়েছে সব শিল্পই। অথচ সরকারের নজর শুধু বড় শিল্পে। ওদিকে মারা যাচ্ছে ছোট–মাঝারি শিল্প সংস্থা। বিমান, গাড়ি এবং পর্যটন শিল্পের জন্য মোরাটোরিয়ামের মেয়াদ বাড়ানোর কথা ভাবা হলেও গুরুত্ব পাচ্ছে না দেশের অর্থনীতির শিরদাঁড়া ছোট–মাঝারি শিল্পগুলি। আবার আগামী মাসেই শেষ হচ্ছে মোরাটোরিয়ামের মেয়াদ। ঋণের বোঝা সামাল দিতে ফের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে পারে তারা, আশঙ্কা বণিকসভার। সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, আগামী মাসের শেষের দিকে প্রায় সাড়ে চার কোটি কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। 
কোভিড এবং লকডাউনের জেরে অর্থনৈতিক মন্দা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ছোট–মাঝারি শিল্প। এপ্রিল–মে জুড়ে বন্ধ ছিল উৎপাদন। বাড়তি বোঝা কমাতে ছোট–মাঝারি শিল্পের ঋণ শোধ স্থগিতের মেয়াদ তিন মাস পেছনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শীর্ষ ব্যাঙ্ক। তা আগামী ৩১ আগস্ট শেষ হচ্ছে। সমীক্ষায় বহু প্রতিষ্ঠানই চাইছে, মেয়াদ বাড়িয়ে একবছর করা হোক। ছোট–মাঝারি শিল্প সংগঠন ‘‌ফিসমি’ জানাচ্ছে, অনেক ব্যাঙ্কই ছোট–মাঝারি শিল্প সংস্থাকে বন্ধকহীন ঋণ দিতে রাজি হচ্ছে না। নগদ না থাকায় ব্যবসা পুরোদমে চালু হয়নি। মোদির আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের স্বাদ এখনও পায়নি সংস্থাগুলো। 
ফিসমি–র সঙ্গে মিলে এই সমীক্ষা চালিয়েছে স্কোচ কনসালটেন্সি সার্ভিসেস। ৪০০টি সংস্থার সঙ্গে কথা এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ঋণ মেটাতে পারবে না দেশের ৬১% ছোট মাঝারি শিল্প সংস্থা। মাত্র ১৬% সংস্থার ঋণ শোধের ক্ষমতা রয়েছে। ৩২% সংস্থা চাইছে, ঋণ পরিশোধ স্থগিতের মেয়াদ একবছর বাড়ানো হোক। ৩৭% বলছে, মাস ছ’‌য়েক বাড়ালেই চলবে!‌ ১৬%–এর দাবি, আরও তিন মাসই যথেষ্ট। মোরাটোরিয়ামের মেয়াদ বৃদ্ধি না হলে জুলাই–এর শেষেই আড়াই থেকে তিন কোটি ছাঁটাই হতে পারে। আগস্টে আরও এক ধাপ। এক থেকে দেড় কোটি ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, রিপোর্টে বলা হচ্ছে। ৫৬% সংস্থা জানাচ্ছে, জুনেই নাকি বেতন দেওয়া টাকা ছিল না তাদের হাতে!‌ রিপোর্টে স্পষ্ট, আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে ছোট–মাঝারি শিল্প সংস্থার জন্য যে তিন লক্ষ কোটির প্যাকেজ ঘোষিত হয়েছে, তার মাত্র ১৯% পূরণ করা গেছে এতদিনে!‌ যারা বন্ধক রাখতে প্রস্তুত, অধিকাংশ ব্যাঙ্ক তাদেরই ঋণ দিচ্ছে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ১.‌২৭ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ ছোট–মাঝারি সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গ্রামে মনরেগা প্রকল্পের মতোই শহরে ছোট–মাঝারি শিল্পের কর্মীদের বেতন নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প চালু করুক কেন্দ্র, পরামর্শ রিপোর্টে।  
 

জনপ্রিয়

Back To Top