দিল্লি: পিএনবি কেলেঙ্কারি ভয় ধরিয়ে দিয়েছে বিদেশি লগ্নিকারী মহলে। ভারতের শেয়ার বাজার থেকে তাদের টাকা তুলে নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একাংশ এই মাসেই শেয়ার বাজার থেকে ১০,০০০ কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন। মন করা হচ্ছে, এর বড়টাই নীরব–কাণ্ডের ধাক্কা। কেলেঙ্কারি প্রকাশের আগে জানুয়ারি মাসে ভারতীয় শেয়ার বাজারে ১৩,৭৮০ কোটি টাকা লগ্নি করেছিলেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। ১৪ ফেব্রুয়ারি নীরব–‌দুর্নীতি সামনে আসে। আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। এদিকে, ১১,৪০০ কোটি টাকার দুর্নীতি প্রকাশ পাওয়ার পর জালিয়াতি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর্থিক জালিয়াতি রুখতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সরকারের অংশীদারি কমানোর দাবি তুলেছে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (‌সিআইআই)‌–‌এর মতো বণিক সংগঠনগুলো। প্রতারণা রুখতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ির পাশাপাশি দ্বৈত নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে তারা। ব্যাঙ্কের নজরদারি এবং পরিচালন ব্যবস্থায় বদল আনার কথাও শুনিয়েছে। একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারি সামনে আসায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও নড়েচড়ে বসেছেন। ব্যাঙ্কের এই তৎপরতায় আবার শিল্পমহলে চিন্তা বাড়ছে, ঋণ পাওয়া কি এবার থেকে কঠিন হয়ে যাবে?‌ 
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন,‘‌ক’‌দিন আগে পিএনবি–র ১১,৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি প্রকাশ পেয়েছে। তারপর ওবিসি–র ৩৯০ কোটি টাকার দুর্নীতি সামনে এসেছে। এ অবস্থায় ঋণদানের নীতি বদলের কথা ভাবতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়া নীতি নিলেও শুধু হবে না। এর সঙ্গে ব্যাঙ্কের কোনও কর্মী জড়িত কিনা সেদিকেও নজর রাখতে হবে। তাহলেই ব্যালান্স শিটের গরমিল ধরা পড়বে।’‌ 
সুরাটের ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়বেন কিনা এমন প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু তাঁরা নীরব–‌কাণ্ড বা ব্যাঙ্কের তৎপরতা নিয়ে বিচলিত নন। তাঁরা পরিষ্কার জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যাঙ্কের ওপর ভরসা আছে। তাই হীরে কারবারি নীরব মোদি আর তাঁর মামা মেহুল চোকসির জালিয়াতির জেরে ঋণদানে ব্যাঙ্ক কড়াকড়ি করলেও তাতে তাঁদের ব্যবসার কোনও ক্ষতি হবে না। হীরে কাটা,পালিশ সবই ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের অন্তর্গত। সুরাটের অনেকেই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে অনেকদিনই ব্যবসা করছেন তাঁরা। তাঁদের আশা, নিয়ম কড়া হলে রাঘববোয়ালদের অসুবিধা হলেও তাঁদের ক্ষেত্রে তেমন কোনও সমস্যা হবে না। এদিকে, রবিবার ফের পিএনবি–র এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর কে ভি ব্রহ্মাজি রাওকে জেরা করতে শুরু করেছে সিবিআই। এর আগেও একদিন তাঁকে জেরা করা হয়েছিল। সন্দেহ বাড়ছে, নীরব মোদি এবং মেহুল চোকসির জালিয়াতিতে তিনিও জড়িত। ৩৫ বছর আগে বিজয়া ব্যাঙ্কের প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ব্রহ্মাজি রাও। মুম্বই–সহ একাধিক জায়গায় নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর সূত্র ধরেই কেলেঙ্কারির তথ্য সংগ্রহ করতে চায় সিবিআই।‌ নীরব মোদির ব্যবসা ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর নানা দেশে। সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টায় আছে ইডি। জানা গেছে, ১৫–‌১৭টি দেশে আইনি অনুরোধপত্র পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অনুরোধপত্র পাঠানোর জন্য আবেদন করা হবে মুম্বই হাইকোর্টে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top