সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: অর্থনীতির বেহাল চিত্রের ধাক্কায় মঙ্গলবার মুখ থুবড়ে পড়ল শেয়ার বাজার এবং টাকার দাম। সেনসেক্স শেয়ারসূচক পড়ে গেছে এদিন ৭৭০ পয়েন্ট, অর্থাৎ ২ শতাংশ। দিনের শেষে ৩৬, ৫৬৩। নিফটিও পড়েছে ২ শতাংশ— ২২৫ পয়েন্ট। দিনের শেষে ১০,৭৯৮। ৮ জুলাইয়ের পর একদিনে সবচেয়ে পতন। আর ডলার পিছু টাকার দাম তো একদিনের ভেতরে ১০০ পয়সাই নেমে গিয়েছিল। শুক্রবার দিনের শেষে ১ ডলারের দাম ছিল ৭১ টাকা ৪০ পয়সা। মঙ্গলবার বাজার খুলতেই দেখা যায় ডলার পিছু দাম দাম দাঁড়িয়েছে ৭১ টাকা ৯৫ পয়সা। একসময় তা চলে যায় ৭১ টাকা ৪০ পয়সায়। দিনের শেষে ৭১ টাকা ৩৯ পয়সা। এ বছর একদিনে এতটা দাম আর পড়েনি।
শুক্রবার প্রকাশ করা হয় সরকারি তথ্য— চলতি অর্থবর্ষের প্রথম তিনমাসের (‌এপ্রিল–‌জুন)‌ অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অঙ্ক নেমে এসেছে ৫ শতাংশে। মার্চ, ২০১৩–‌র পর যা সর্বনিম্ন। সোমবার শেয়ার বাজার বন্ধ ছিল গণেশ চতুর্থীর জন্য। আজ বাজার খুলতেই ধরা পড়ে এর ধাক্কা। 
দিল্লিতে এদিন সিবিআই আদালতে তোলা হয়েছিল কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমকে। আদালত চত্বরে একজন সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কিছু বলবেন?‌ হাসি–‌হাসি মুখে পাঁচ আঙুল দেখিয়ে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর উত্তর, ‘‌৫ শতাংশ। ৫ শতাংশ মানে কী?‌ আপনাদের মনে আছে তো ৫ শতাংশের কথা?‌’‌ অর্থনীতির হাল নিয়ে এদিন টুইট করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। হিন্দিতে টুইট করেন তিনি, ‘মিথ্যে কথা একশোবার বললেই তা সত্যি হয়ে যায় না। বিজেপি সরকারের স্বীকার করে নেওয়া উচিত, একটা ঐতিহাসিক মন্দা চলছে। এবং চেষ্টা করা উচিত তার সুরাহা করা।’‌  প্রিয়াঙ্কা আরও লেখেন, ‘‌মন্দার হাল সবার চোখের সামনে। সরকার কতদিন আর হেডলাইন ম্যানেজন্টের চেষ্টা চালাবে?‌’‌   
এদিন শেয়ার বাজারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ধাক্কাটা পড়েছে সব সেক্টরেই। আজ সব থেকে বেশি দর পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির। এরই মাঝে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আজ আইডিবিআই–‌এর জন্য ৯,৩০০ কোটি টাকার তহবিল মঞ্জুর করেছে। এই অর্থের ৫১ শতাংশ অর্থাৎ ৪,৭৪৩ কোটি টাকা জোগাবে এলআইসি, বাকিটা কেন্দ্রীয় সরকার। এ বছর জানুয়ারিতে আইডিবিআই–‌এর ৫১ শতাংশ শেয়ার চলে যায় এলআইসি–‌র হাতে।   
‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top