আজকালের প্রতিবেদন: ধস অব্যাহত এদেশের শেয়ার বাজারে। মঙ্গলবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই হাজার পয়েন্ট নেমে গিয়ে সেনসেক্স দাঁড়ায় ৩৩,৪৮২ পয়েন্টে। নিফটির সূচক ৩৬৬ পয়েন্ট পড়ে দাঁড়ায় ১০,৩০০ পয়েন্টে। বাজেটের পর থেকে বাজারের ক্রমাগত পতনের বহর দেখে শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে আসরে নামতে হয় কেন্দ্রীয় অর্থ–রাজস্ব সচিব হাসমুখ আধিয়াকে। এক বছরের বেশি সময়ের বিনিয়োগ থেকে ১ লক্ষ টাকার বেশি আয়ের (‌লংটার্ম ক্যাপিটাল গেনস) ওপর ১০ শতাংশ কর ‌বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। আর বাজেটের দিন থেকেই পড়ছে শেয়ার বাজার। সেই কর তুলে নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে আধিয়া বলেন, বিশ্ব জুড়ে শেয়ার বিক্রির ধাক্কায় দেশে দেশে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। তা সত্ত্বেও স্থানীয়ভাবে এ দেশের বাজারের জন্য কী করা যায় তা সরকার খতিয়ে দেখবে। তাঁর এই আশ্বাসের কারণেই কিনা বলা কঠিন, তবে দিনের শেষে এদেশের শেয়ার বাজার খানিকটা অন্তত ঘুরে দাঁড়ায়। 
শেয়ার বাজারে বিশ্ব জুড়েই যে ধস নেমেছে, তাতে সংশয় নেই।  অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ার বাজারে ধসের প্রভাবেই ভারত–‌সহ বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারের এই হাল। মার্কিন সূচক ডাউ জোনস গতকাল পড়েছে ১,১৭৫ পয়েন্ট (‌৪.‌৬ শতাংশ)‌। তারপরেই আজ বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ধস নামে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলির শেয়ার বাজারে। সেই ধারা অব্যাহত থাকে এদেশের বাজারেও। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৪,৯৪,৭৬৬ কোটি টাকা উবে যায়। পরে অবশ্য বাজার খানিকটা ওঠে। সোমবার বাজার বন্ধের সময়ে সেনসেক্স ৩৪,৭৫৭.১৬ এবং নিফটি ১০,৬৬৬.৫৫ অঙ্কে এসে থেমেছিল। আজ বাজার বন্ধের সময় সেনসেক্স নেমে দাঁড়িয়েছে আরও ৫৬১ পয়েন্ট (‌১.‌৬১ শতাংশ)‌, এবং নিফটি ১৬৮ পয়েন্ট (‌১.‌৫৮ শতাংশ)‌‌। 
এ দেশের বাজার অবশ্য বাজেটের দিন বেলা বারোটার পর থেকেই পড়ছে, আর এ পর্যন্ত উবে গেছে ৯ লক্ষ কোটি টাকা। ১ ফেব্রুয়ারি বেলা বারোটা থেকে আজ বাজার বন্ধের সময় পর্যন্ত সেনসেক্স পড়েছে ১৯১৮ পয়েন্ট (‌৫.‌৩ শতাংশ)‌, আর নিফটি পড়েছে ৫৭০ পয়েন্ট (‌৫.‌১৪ শতাংশ)‌। মার্কিন দেশের ডাউ জোনস অবশ্য পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত পড়েছে ৭ শতাংশ। কাজেই ভারতে শেয়ার বাজারের পতন শুধুই লংটার্ম ক্যাপিটাল গেল–এর কারণে, এমন ভাবটা অতি–সরলীকরণ হয়ে যাবে। কিন্তু বাজেটের দিন থেকে আজ পর্যন্ত মোটের ওপর ৯ লক্ষ কোটি টাকা হারিয়েছেন এ দেশের বাজারে বিনিয়োগকারীরা। তবে এদেশের বাজার যে একটু বেশিই চড়ে ছিল তাতে সংশয় নেই। ঠিক ১ বছর আগে সেনসেক্স ছিল ২৮,২৪০ পয়েন্টে। তার পর একটানা বাড়তে বাড়তে এ বছর বাজেটের দিন দুপুর বারোটায় তা পৌঁছয় ৩৬১৮৭ পয়েন্টে। অর্থাৎ এক বছরে বাজার বেড়েছিল ২৮ শতাংশ। এই উত্থানের কারণ যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। কারণ, এই সময়ে দেশের অর্থনীতির হাল ছিল বেশ খারাপ। শিল্পে বিনিয়োগও সেভাবে বাড়ছিল না। 
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এখন শেয়ারের থেকে বন্ডের বাজার বেশি আকৃষ্ট করছে বিনিয়োগকারীদের। বন্ড থেকে আয় বাড়ছে। মার্কিন মহলে আশঙ্কা, সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই আশঙ্কাতেই অনেকে শেয়ার বিক্রি করে লগ্নি বাড়াচ্ছেন বন্ডে। ফলে ক্রমশ পড়ছে বিশ্ব বাজার। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে ভারতেও। এ দিকে বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নতুন ঋণনীতি ঘোষণা করবে। সুদ যে আর কমবে না, তা ধরেই নিয়েছে শেয়ার বাজার। মুদ্রাস্ফীতি রুখতে সুদ এখনই বাড়ানো হবে না আরও কিছুদিন পরে, প্রশ্ন সেটাই। ফলে অনেকেরই আশঙ্কা এদেশের শেয়ার বাজার এখন কয়েক মাস আজকের মতো জায়গাতেই থাকবে। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, আরও একটু পড়লেও পড়তে পারে।

জনপ্রিয়

Back To Top