আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনুৎপাদক সম্পদের স্তূপ সাফাই করতে নেমে কেন্দ্রের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন ‘‌মোদি সরকারের অত্যন্ত কাছের লোক’‌ উর্জিত প্যাটেল। মাত্র দু’‌বছরের মাথায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আচমকা পদত্যাগের এতদিন পর অবশেষে মুখ খুললেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর। নাম না করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে শীর্ষ ব্যাঙ্কের কাজে রাজনৈতির হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন উর্জিত। নিশানা করেছেন আমলাতন্ত্রের অদূরদর্শীতাকে। কেন্দ্রের সঙ্গে মতানৈক্য নয়া দেউলিয়া আইন ঘিরে। খুঁটিনাঁটি উল্লেখ করেছেন নতুন বই ‘ওভারড্রাফ্ট: সেভিং দ্য ইন্ডিয়া সেভার’–এ।

বিরোধের সূত্রপাত ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। একটি সার্কুলার জারি করেছিল আরবিআই। নির্দেশ ছিল, ঋণগ্রহীতারা ঋণের কিস্তি মেটাতে দেরি করলেই তাদের ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষণা করে তালিকা তৈরি করবে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলি। তারপর তাদের সম্পত্তি নিলামে চড়িয়ে প্রাপ্য আদায় করা হবে। নতুন আইনে এও বলা হয়, নিলামে ওই সম্পত্তি পুনরায় কিনতে পারবেন না মালিকেরা। উর্জিত জানান, শুরুর দিকে সব ঠিকই ছিল। তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তর আলোচনাও করেছেন তিনি। দু’‌জনেই মনে করতেন, ওষুধে কাজ হবে!‌ কিন্তু হঠাৎ কেন্দ্রের উৎসাহে ভাটা। গুজব রটল, নয়া আইনে সমস্যায় পড়বে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। মার খাবে ছোট–মাঝারি সংস্থা। ‘‌উপরমহল’ থেকে আবেদন আসে, প্রত্যাহার করে নেওয়া হোক নতুন আইন। ‌‌
ওই সময়ে কেন্দ্র ও শীর্ষ ব্যাঙ্কের মধ্যে সঙ্ঘাতের একাধিক খবর সামনে আসে। খবর হয়েছিল, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বাড়তি ভাঁড়ারে কেন্দ্রকে ভাগ বসাতে দেওয়া হচ্ছে না। শোনা গিয়েছিল, ২০১৯–এর লোকসভা ভোটের আগে শীর্ষ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত অর্থ উন্নয়নমূলক কাজে লাগাতে চায় কেন্দ্র। আরবিআইয়ের তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার বিরল আচার্য্য প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্বাধীন চরিত্রে হস্তক্ষেপ করছে কেন্দ্র। সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ টানাপোড়েনে ইস্তফা দিয়েছিলেন উর্জিত। পদত্যাগে ‘‌আহত’ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‌ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফা দিয়েছেন উর্জিত।’‌‌  
উর্জিতের পদত্যাগের পরই শীর্ষ ব্যাঙ্কের গভর্নর পদে বসেছিলেন শক্তিকান্ত দাস। এসেই নয়া দেউলিয়া আইন শিথিল করেন তিনি। স্থির হয়, যে অ্যাকাউন্টে গোলমাল আছে, সেগুলি পর্যালোচনা করতে ঋণদাতাদের ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ঋণখেলাপিদের দেউলিয়া ঘোষণা করার নির্ধারিত সময়সীমাও তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও আরবিআই–এর ভাঁড়ার থেকে কেন্দ্রকে বড় অঙ্কের অর্থ সাহায্যও করেন শক্তিকান্ত দাস। 
উর্জিত দায়িত্বে থাকাকালীন অনুৎপাদক সম্পদের জঞ্জালে চাপা পড়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলি। নগদের অভাবে ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছিল। ওদিকে অর্থনীতির টলোমলো দশা। বাজারে চাহিদায় ঘাটতির লাল সঙ্কেত। কোন কৌশলে তার মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন, সে সব লিখেছেন বই–তে। লিখেছেন, ব্যক্তিগত বা ছোট ঋণগ্রহীতারা ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে তাদের শূলে চড়ানো হয়েছে। সম্পত্তি বেচে ঘাড় মটকে টাকা আদায় করা হয়েছে!‌ কিন্ত বড় ঋণগ্রহী কর্পোরেট সংস্থা ঋণ মেটাতে না পারলেও তাদের ঋণকে অনুৎপাদক সম্পদ ঘোষণা করা হয় না সহজে। সরকারের তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই, সিএজি এবং সিবিসি–এর ভয়ে পিছিয়ে আসে সরকারি ব্যাঙ্কগুলি। উর্জিতের তোপ, ব্যাঙ্কগুলির এই চরিত্রের কারণেই আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা হত না অনেক সময়ে। যা কিনা ব্যাঙ্কারদের প্রাথমিক কাজ!‌      

জনপ্রিয়

Back To Top