আজকালের প্রতিবেদন,মুম্বই: মুদ্রাস্ফীতির হার ৫ শতাংশ ছাড়াচ্ছে। এপ্রিল–জুনে তা সাড়ে পাঁচে পৌঁছতে পারে। এই অবস্থায় আজ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (‌আরবিআই)‌ রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখেছে। গভর্নর উর্জিত প্যাটেল–‌সহ আরবিআইয়ের ৬ সদস্যের আর্থিক নীতি কমিটির মধ্যে পাঁচজন সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে চেয়েছিলেন। ষষ্ঠ সদস্য, ব্যাঙ্কের কার্যনির্বাহী পরিচালক মাইকেল পাত্র, তা বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে রেপো রেট (‌যে হারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়)‌ ৬ শতাংশই থেকে যায়। তবে এ থেকে একটা ইঙ্গিত স্পষ্ট। সম্ভবত লোকসভা ভোটের আগে পর্যন্ত সুদের হার আর কমবে না। বরং ভবিষ্যতে সামান্য বাড়লেও বাড়তে পারে। সামনের মার্চে শেষ হতে চলা আর্থিক বছরে বৃদ্ধির হার ৬.‌‌৭ নয়, ৬.‌৬ শতাংশ হবে বলে তাঁরা এখন মনে করছেন। 
আর্থিক নীতি কমিটি বলেছে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, রাজ্যগুলিতে সপ্তম পে কমিশনের রিপোর্ট রূপায়ণ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি করহার বাড়ানো, এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক ঘাটতির হার ৩.‌৫ শতাংশ শতাংশে পৌঁছনোর কারণেই এই অনিশ্চয়তা। রাজস্ব ঘাটতি বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি ছাড়াও বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপরেও তার প্রভাব পড়বে। ঋণ নেওয়ার জন্য বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে বেশি টাকা গুনতে হবে। উর্জিত প্যাটেল লং টার্ম ক্যাপিটাল গেনস ট্যাক্স–সহ এই ধরনের পাঁচটি কর চিহ্নিত করেছেন। শেয়ার বাজারের পক্ষ থেকে যখন ‌এক বছরের বেশি ধরে রাখা শেয়ারের লাভের ওপর ১০ শতাংশ কর বসানোর‌ বিরোধিতা করা হচ্ছে, তখন প্যাটেলের এই বক্তব্য  বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্পষ্ট ইঙ্গিত, মূলধনের ওপর বিভিন্ন কর ও সুদের হারের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগের বাধা সরবে না। 
আরবিআই মনে করছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চে মুদ্রাস্ফীতির হার থাকবে ৫.‌১ শতাংশ। আর তার পরের তিন মাস, অর্থাৎ সামনের এপ্রিল–জুনে তা ৫.‌১ থেকে ৫.‌৬ শতাংশের মধ্যে থাকবে। কিন্তু জুলাই–সেপ্টেম্বরে তা আবার সাড়ে চার শতাংশে নামতে পারে। আরবিআইয়ের অন্যতম কাজ হল মুদ্রাস্ফীতির হার ২ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখার জন্য চেষ্টা করা। তবে অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে জানিয়েছে আরবিআই। অর্থনীতির মধ্যে সুপ্ত দক্ষতার সদ্ব্যবহারের ও গ্রামীণ মজুরি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর কারণ, গ্রামমুখী বাজেট ও পরিকাঠামোর ওপর জোর দেওয়া। জিএসটি স্থিতাবস্থায় পৌঁছচ্ছে এবং নোটবাতিলের ধাক্কা কেটে গেছে। ফলে আগামী আর্থিক বছরে (‌এপ্রিল ২০১৮–মার্চ ২০১৯)‌ বৃদ্ধির হার ৭.‌২ শতাংশে পৌঁছবে বলেও তাঁরা মনে করছেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top