আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আর্থিকভাবে পঙ্গু কেন্দ্রীয় রাজনীতিকে চাঙ্গা করতে রেকর্ড ঋণদানের ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ঘাটতিতে চলা দেশের অর্থনীতির জন্য ১.‌৭৬ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেছে আরবিআই। এই ঋণের মধ্যে যে ১.‌২৩ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হবে তার মধ্যে রয়েছে ডিভিডেন্ডও। ৫২৬৪০ কোটি টাকা আরবিআই তার অতিরিক্ত মূলধন থেকে দিচ্ছে কেন্দ্রকে। গত ফেব্রুয়ারিতেই ২৮০০০ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড পেমেন্ট হিসেবে আগেই কেন্দ্রের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছে আরবিআই। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বিবৃতিতে এমনটাই জানা গিয়েছে। তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআই–এর এই ঋণ একরকম নামেই। কারণ এটা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ফেরত পাওয়ার আশা খুব একটা দেখছেন না তাঁরা। দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর সমীক্ষা দেখার পরই আরবিআই–এর প্রাক্তন গভর্নর বিমল জানালের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের সুপারিশে অতিরিক্ত মূলধন থেকে ঋণ দেওয়ার অনুমোদন করেছে আরবিআই। 
অর্তনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআই–এর এই ডিভিডেন্ড এবং অতিরিক্ত মূলধন দেওয়ার ফলে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি কিছুটা চাঙ্গা হতে পারে। গত শুক্রবারই কর ছাড় সহ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী একগুচ্ছ ঘোষণা করেছিলেন যাতে অর্থনীতিতে কিছুটা উত্থান হয়। এই বছর আরবিআই–এর থেকে পাওয়া ডিভিডেন্ডের পরিমাণ বাজেট বরাদ্দের ৯০০০০ কোটি থেকে ইতিমধ্যেই ছাড়িয়ে গিয়েছে। আরবিআই–এর থেকে পাওয়া এই ঋণের ৭০০০০ কোটি টাকা অবিলম্বে কেন্দ্র সরকারি ঋণদাতাদের দেবে বলে শুক্রবার বলেছিলেন সীতারমন। 
দেশের অর্থনীতি যে ঘাটতির পথে চলেছে সেই ইঙ্গিত বেশ কিছু মাস ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল। ডলারের তুলনায় ক্রমাগত পড়ে যাচ্ছিল টাকার দাম। সোমবার রেকর্ড পতন ঘটে টাকার দামে। শেয়ারবাজারের সূচকেও টানা পতন ঘটছে। যদিও সোমবার কিছুটা উঠেছিল শেয়ার সূচক। সোমবার রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে সোনার দামে। এই সব কেন্দ্রীয় অর্থনীতির দুরবস্থারই কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রধান অর্থনীতিক শুভদা রাও বললেন, কর রাজস্ব থেকে যে ঘাটতি হয়েছে তা এই রেকর্ড ঋণ থেকে কিছুটা পূরণ হতে পারে। কারণ সরকার এই টাকা ঋণদাতাদের দেবে। বন্ড মার্কেট এরপর তৈরি হবে সেই লাভ থেকে। 
বিনিয়োগ, নোট ছাপানো এবং কয়েন তৈরির উপর হওয়া লাভের ভিত্তিতে প্রতিবছরই আরবিআই কেন্দ্রকে ডিভিডেন্ড দেয়। এই সপ্তাহের শেষে বার্ষিক রিপোর্টে ব্যাল্যান্স শিট প্রকাশ করবে আরবিআই। গত কয়েক বছর ধরেই সরকার দাবি করে আসছিল যতটা প্রয়োজন তার থেকে বেশি মূলধন নিজের হাতে রেখে দিয়েছে আরবিআই। সেজন্য আরবিআই–এর কাছ থেকে বেশি ঋণ দাবি করছিল তারা। ব্যাল্যান্স শিটে আরবিআই–এর ইকুইটি রাখা হয়েছে ৬.‌৮ শতাংশ। কিন্তু প্যানেলের সুপারিশ প্রয়োজন ৫.‌৫–৬.‌৫ শতাংশ। এমনটাই বিবৃতিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইকুইটি স্তরকে ৫.‌৫ শতাংশ রাখা হবে।
এই অবস্থা যে হতে চলেছে তার ইঙ্গিত অনেক আগেই দিয়েছিলেন আরবিআই–এর প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। সরকার যে কেন্দ্রীয় অর্থনীতি এবং আর্থিক বৃদ্ধির দুরবস্থা দেশবাসীর কাছ থেকে লুকিয়ে রাখছে এবং ভুয়ো বড়াই করছে সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। সেজন্য কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতেও জড়িয়ে পড়েছিলেন রাজন। এমনকী তাঁর উত্তরসূরী উর্জিত প্যাটেলও একই কারণে সরকারের সঙ্গে মতান্তরের জেরে কার্যকাল শেষের আগেই ইস্তফা দেন। একইভাবে আরবিআই–এর ডেপুটি গভর্নর বিরল আচার্যও এই নিয়েই গন্ডগোলের জেরে সময়ের আগেই ইস্তফা দিয়ে চলে যান। তবে আরবিআই–এর বর্তমান গভর্নর তথা আরএসএস সদস্য শশীকান্ত দাস অবশ্য এনিয়ে নীরবই ছিলেন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top