আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রাজকোষ ঘাটতি মেটাতে ফের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভাঁড়ারে হাত ঢোকালো কেন্দ্র। শুক্রবার আরবিআই জানিয়েছে, ‘‌উদ্বৃত্ত’ ৫৭,‌১২৮ কোটি টাকা সরকারের হাতে তুলে দিতে রাজি তারা। আর্থিক ব্যবস্থায় ঝুঁকি সামাল দেওয়ার জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঘরে আলাদা একটি সিন্দুক রয়েছে। ওই ভাঁড়ারে কত শতাংশ অর্থ থাকলে ঝঁুকি সামাল দেওয়া সম্ভব, তা আগেই মেপে রাখে আরবিআই। এদিন কেন্দ্রীয় বোর্ডের ৫৮৪তম বৈঠকের পর জানানো হয়, ওই খাতে ৫.‌৫% অর্থ রেখে বাকি অংশ তুলে দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্রের হাতে। 
গত ২০১৮–১৯ অর্থবর্ষে আরও মোটা অঙ্কের তহবিল ঢোকে কেন্দ্রের রাজকোষে। অর্থনীতির টলোমলো দশা দেখে সে বার মোদি সরকারের ঘরে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছিল শীর্ষ ব্যাঙ্ক। সেই বছর ডিভিডেন্ড হিসেবে ১.‌২৩ লক্ষ কোটি টাকা এবং উদ্বৃত্ত হিসেবে ৫২,‌৬৪০ কোটি টাকা কেন্দ্রকে দিয়েছিল আরবিআই। ডিভিডেন্ড হিসেবে মুনাফার ভাগ তো রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দেয়ই। তার সঙ্গে নিজেদের ভাঁড়ারে থাকা ‘বিপুল টাকাকড়ি’র একটি অংশও আসা উচিত কেন্দ্রের কোষাগারে, সরকারে আসার পর থেকেই বারবার এ নিয়ে দাবি তুলেছে মোদি সরকার। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর উর্জিত প্যাটেলের সঙ্গেও এ নিয়ে কেন্দ্রের মতবিরোধ হয়। গভর্নর পদ থেকে উর্জিতের ইস্তফা দেওয়ার একটা বড় কারণও ছিল ওই দ্বন্দ্ব। শক্তিকান্ত দাস রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর হওয়ার পরই ‘‌সিন্দুক’–এ ভাগ বসাতে সুবিধে হয় কেন্দ্রের। 
করোনা সংক্রমণ আর লকডাউনে বহুদিন ধরেই ধুঁকছে অর্থনীতি। রথের চাকা ঘোরাতে কেন্দ্রের ব্যয় বাড়লেও আয় বাড়েনি। ফলত ভাঁড়ারে টান, রাজকোষ ঘাটতি। অতিমারীর কবল থেকে ঘুরে দাঁড়াতে বারবার ত্রাণের আর্জি জানাচ্ছে শিল্প সংস্থাগুলো। সম্প্রতি কেন্দ্রের এক আধিকারিকও জানিয়েছিলেন, ‌রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নগদ অর্থেই সমস্যার সুরাহা হবে। অর্থাৎ পূর্বাভাস আগে থেকেই ছিল। কিন্তু ঘন ঘন আরবিআই–এর উদ্বৃত্তে কেন্দ্রের ভাগ বসানোতে বড় আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই বাড়তি তহবিল থেকেই আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে সঙ্কট কিংবা ঘরোয়া ব্যাঙ্কের অর্থনৈতিক সঙ্কট দূর করে আরবিআই। এই কুঠুরিতে বারবার কেন্দ্রের নজর পড়তে থাকলে টোল খেতে পারে শীর্ষ ব্যাঙ্কের ঝুঁকি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা।    

জনপ্রিয়

Back To Top