ধ্রুবজ্যোতি নন্দী- বাজেট পেশের দু’‌দিন আগে সংসদে পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, চলতি আর্থিক বছরে দেশের অর্থনীতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.৭৫% হারে। গত বছরের সমীক্ষায় আশা করা হয়েছিল, এই বৃদ্ধির হার থাকবে ৬.৭৫% থেকে ৭.৫%–‌এর মধ্যে। শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে তার নিম্নসীমাটি স্পর্শ করা। তবে সেন্ট্রাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অর্গানাইজেশন (সিএসও)–‌এর হিসেব ছিল, প্রকৃত বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৬.৫%। আজ সংসদে অরুণ জেটলি অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশের অল্প কিছু পরেই এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যম দাবি করলেন, নোট বাতিলের ধাক্কা কাটিয়ে দেশের আর্থিক হাল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখাচ্ছে, দ্রুত চাঙ্গা হয়ে উঠছে অর্থনীতি। এখন সিএসও–‌ও মানবে, আর্থিক বছরের শেষে, অর্থাৎ মার্চের শেষে ৬.৭৫% বৃদ্ধির হার খুবই বাস্তবানুগ হিসেব। সমীক্ষায় আশা করা হয়েছে, ১ এপ্রিল ২০১৮ থেকে শুরু হওয়া অর্থবর্ষে ভারতীয় অর্থনীতি বৃদ্ধি পাবে ৭ থেকে ৭.৫% হারে। হয়ে উঠবে বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে দ্রুততম বৃদ্ধির দেশ। জিএসটি চালু করা, দেউলিয়া আইন চালু করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণ কমিয়ে আনার ব্যবস্থা করা, ওই ব্যাঙ্কগুলিতে নতুন মূলধন জোগানোর ব্যবস্থা করা, কয়েকটি ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের পথ সুগম করার মতো যে–‌সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তারই ফল হিসেবে চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে অর্থনীতির হাল ফিরতে শুরু করেছে। বিশ্ব অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার লক্ষণ দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে রপ্তানি। উৎপাদন বাড়ছে সংগঠিত শিল্পে। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে, বৃদ্ধির হার উন্নত হবে। সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, ২০১৪ সালে যেখানে শৌচাগার ছিল দেশের মাত্র ৩৯% এলাকায়, ২০১৮–‌র জানুয়ারিতে সেটাই বেড়ে হয়েছে ৭৬%। ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, কৃষি, গ্রামীণ এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ বহুলাংশে বাড়বে আগামী বছরে।
এ–‌সবের পাশাপাশি সমীক্ষায় আশঙ্কার কথাও আছে। অশনিসঙ্কেত দেখাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রো–‌তেলের দাম। দাম আরও বাড়লে বৃদ্ধির হারের ওপর তার কুফল পড়বেই। সবিস্তারে ব্যাখ্যা করে অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যম বলেছেন, এক ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে ০.২% হারে, ঠিক একই হারে কমে ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধির হার। মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অবশ্য মনে করিয়ে দেননি যে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এক ব্যারেল তেলের দাম যখন ১১০ ডলার থেকে নেমে ৩০ ডলারে পৌঁছেছিল, সেই সুবিধে পেয়েই ভারতীয় অর্থনীতি চড়া হারের বৃদ্ধি দেখাতে পেরেছিল। এখন ব্যারেলের দাম ৭০ ডলার ছুঁতেই তিনি সতর্কবার্তা শোনাচ্ছেন। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে আগামী আর্থিক বছরে দেশের আর্থিক ঘাটতি ৩.২% থেকে নামিয়ে আনা যাবে ৩%–‌এ। অর্থনৈতিক মহলের চিন্তাবিদরা অনেকেই অবশ্য নির্বাচনের বছরে তার সম্ভাব্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ বলেছেন, সমীক্ষা যা–‌ই বলুক, অর্থনীতি এখনও বেহাল। অপ্রস্তুত অবস্থায় জিএসটি চালু করার ফল ভুগছে দেশের ছোট এবং মাঝারি শিল্প। অবস্থা আগের চেয়ে খানিকটা ভাল হলেও, সরকার পরের পর ভুল না করে গেলে অর্থনীতির হাল অনেক ভাল হতে পারত। পেট্রো–‌তেলের দাম যখন কমছিল, তখন দেশের মানুষকে তার সুবিধে পেতে দেয়নি মোদি সরকার। এখন তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে, কিন্তু সরকার বুঝিয়ে দিচ্ছে দেশের মানুষকে কোনও সুরক্ষা দিতে তারা অপারগ।  ‌

মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যম

জনপ্রিয়

Back To Top