আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের ‌তৃতীয় কিস্তিতে কৃষি, পশুপালন ও মৎস্যচাষের দিকে জোর দিল কেন্দ্র। কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে এক লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকে মোট ১১টি পদক্ষেপের ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। তার মধ্যে আটটি পদক্ষেপই কৃষি পরিকাঠামো, সংরক্ষণ সংক্রান্ত। বাকি তিনটি সরকারের বিবিধ পদক্ষেপ ও সংস্কার সংক্রান্ত। অর্থমন্ত্রী জানান, ‘‌লকডাউনের সময়ে ৭৪,‌৩০০ কোটি টাকার ফসল কেনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিষান প্রকল্পে আওতায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৮,‌৭০০ কোটি টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় কৃষিক্ষেত্রে ৬,‌৪০০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হচ্ছে। লকডাউনের সময়ে দুধের চাহিদা প্রায় ২০–২৫% কমে গিয়েছে। ফলে যাঁরা পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরাট ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই বছর অর্থাৎ ২০২০–২১ অর্থবর্ষে দুধের সমবায়গুলোকে সুদের হারে ২% ছাড় দেওয়া হবে। এই খাতে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করবে। এতে উপকৃত হবেন প্রায় দু’‌কোটি কৃষক। কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার শীঘ্র এক লক্ষ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করবে।’ ছোট ছোট খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্যে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘‌ছোট খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পগুলিকে আর্থিক সহায়তা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন ক্লাস্টারও তৈরি করা হবে যাতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো যায়। এর ফলে দু’‌লক্ষ সংস্থা উপকৃত হবে।’‌ তৃতীয় পদক্ষেপে অর্থমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্যচাষ সংক্রান্ত ক্ষেত্রগুলিতে। জানান, ‘‌প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্প্রদায় যোজনার মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১১ হাজার কোটি টাকা সামুদ্রিক মৎস্য শিকার সেই সংক্রান্ত কাজে খরচ হবে। বাকি ৯ হাজার কোটি খরচ হবে অন্তর্দেশীয় মৎস্য চাষে।’‌ ৫৩ কোটি গবাদিপশুর টীকাকরণের ঘোষণা করেন নির্মলা সীতারামন। জানান, এই খাতে কেন্দ্র খরচ করবে ১৩,৩৪৩ কোটি টাকা। এছাড়াও প্যাকেজ ও ডেয়ারি শিল্পের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গড়ার কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর কথায়, ‘‌ডেয়ারি শিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হবে । ডেয়ারি শিল্পের উন্নয়নে এই টাকা খরচ হবে। ডেয়ারি শিল্পে ইনসেনটিভ দেওয়া হবে। দুগ্ধজাত সামগ্রী রপ্তানিতে ইনসেনটিভ দেওয়া হবে।’‌ ভেষজ শিল্পের জন্যে মোট ৪ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হল এদিন। সীতারামন জানান, প্রায় ১০ লক্ষ হেক্টর জমি কেনা হবে ভেষজ উৎপাদনের জন্য। এর থেকে পরবর্তী সময়ে কৃষকদের জন্য ৫০০০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা আছে। এমনকী গঙ্গার ধার বরাবর ৮০০ হেক্টর জমিতে ভেষজ ও ঔষধী উদ্ভিদের চাষ করা হবে। সপ্তম ধাপে মৌমাছি পালনের ওপর জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী। জানালেন, এই খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। গ্রামীণ এলাকায় ২ লক্ষ মৌমাছি পালক কৃষক এতে উপকৃত হবেন এবং তাঁদের আয় বাড়বে। অন্যান্য খাতের তুলনায় বরাদ্দ কম হলেও কৃষকদের বড় সুবিধা হবে, বলেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষি পরিবহনের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এদিনের ঘোষণায়। সরকারি সংস্কার সংক্রান্ত পদক্ষেপে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘‌অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধন করা হবে। খাদ্যসামগ্রী মজুতের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়া হবে। বাধ্য হয়ে যাতে কম দামে ফসল বিক্রি না করতে হয়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ঊর্ধ্বসীমা কার্যকর করা হবে না। পাশাপাশি কেন্দ্র এমন একটি আইন নিয়ে আসবে যাতে ফসল বিক্রিতে কৃষকরা বিশেষ সুবিধে পান। কোনও এজেন্টের কাছে লাইসেন্স না থাকলেও ফসল বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা। আন্তঃরাজ্য বিক্রিতেও অনুমতি দেওয়া হবে। কৃষকদের ফসলের দামের নিশ্চয়তা দেবে সরকার। উৎপাদন থেকে ফসল কেটে বিক্রি করা পর্যন্ত কৃষকদের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।’‌  

জনপ্রিয়

Back To Top