সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: জিএসটি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল। তাঁর মতে, রাজ্যগুলিকে জিএসটি–‌র ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয় কেন্দ্র। জিএসটি–‌র ঘাটতি মেটানোর উপায় সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে জিএসটি কাউন্সিলকে। প্রয়োজনে যতটা ঘাটতি হচ্ছে তা পূরণের জন্য ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে কাউন্সিল। সূত্র মারফত এই খবর মিলেছে।  
করোনা মহামারীর প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। রাজস্ব ঘাটতির কারণ দেখিয়ে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য পেতে মরিয়া রাজ্যগুলো। তারা ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছে বারবার। এই অবস্থায় কেন্দ্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চেয়েছিল, করোনার মতো মহামারী পরিস্থিতিতে কেন্দ্র স্বাভাবিক সময়ের জন্য নির্ধারিত হারে জিএসটি–র ক্ষতিপূরণ দিয়ে যেতে বাধ্য কিনা। সেই প্রসঙ্গেই তাঁর মত জানিয়েছেন বেণুগোপাল। দেশে ২০১৭ সালের ১ জুলাই জিএসটি চালু হয়। তখন ২০১৫–১৬ সালকে ভিত্তিবর্ষ ধরা হয়েছিল তখন। জিএসটি আইনে বলা হয়েছিল, বছরে ১৪ শতাংশ হারে জিএসটি বাবদ আদায় বাড়বে। জিএসটি আদায় যথাযথ না হলে, কেন্দ্রের থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবে রাজ্যগুলি। এতদিন এভাবেই চলছিল। জিএসটি–‌র ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা থেকে রাজস্ব ঘাটতি পুষিয়ে নিচ্ছিল রাজ্যগুলো। 
কিন্তু করোনা এসে সব অঙ্ক গুলিয়ে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতি সঙ্কুচিত হচ্ছে। তাছাড়া লকডাউনের জন্য মাসের পর মাস কলকারখানা বন্ধ থেকেছে। ফলে, জিএসটি আদায় ১৪ শতাংশ হারে বাড়ার সম্ভাবনা বিলীন হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বেঁকে বসেছে কেন্দ্র।‌ কারণ রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায়, কেন্দ্রের হাতে আগের প্রস্তাবিত হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার টাকা নেই বলে সরকারি সূত্রের বক্তব্য। সেই কারণেই কী করণীয় তা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে বিষয়টির আইনি ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
কেন্দ্রের বক্তব্য, ২০১৯–২০ অর্থবর্ষে জিএসটি পণ্যের সেস থেকে আয় হয়েছিল ৯৫,৪৪৪ কোটি টাকা। তা সত্ত্বেও ওই বছর জিএসটির ক্ষতিপূরণ খাতে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ২০১৮–১৯ অর্থবর্ষে ক্ষতিপূরণ খাতে ৬৯,২৭৫ কোটি টাকা ও ২০১৭–১৮ অর্থবর্ষে ৪১,১৪৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন করোনা অতিমারীর কারণে আর্থিক গতি শ্লথ হয়েছে। আয় কমেছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা মহামারী হলেও ক্ষতিপূরণ দিয়ে যেতে হবে, জিএসটি আইনে তার উল্লেখ নেই। অ্যাটর্নি জেনারেলও ক্ষতিপূরণ কমানোর দায়িত্ব ঠেলেছেন জিএসটি কাউন্সিলের ঘাড়ে। কেন্দ্র হরেক যুক্তি দেখালেও, কনসলিডেটেড ফান্ড থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা মোটানোর দাবি জানিয়েছে রাজ্যগুলি। কিন্তু ওই তহবিল থেকে জিএসটি–‌র ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ২০১৭ সালেই নাকচ করেছে কেন্দ্র।

জনপ্রিয়

Back To Top