আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ তীব্র গরম। জলসঙ্কট। জলপাম্পের সামনে বসে চাষের জমির দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে অজয় সিং। জলের অভাবে এখন আর ধান ফলে না ওই জমিতে। বাধ্য হয়েই মিলেট শস্য, ভুট্টা, বরবটি, লাউ চাষ করতে হয় তাঁকে। রোজগারও কমেছে। আগে ধান ফলিয়ে বছরে দেড় লাখ টাকা মতো আয় হত। নির্ধারিত দামে সরকারকে বেঁচাও যেত। এখন ভুট্টা, মিলেট শস্যে সরকার দাম দেয় না। চাষে জলের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য সরকার থেকে একর প্রতি হাজার সাতেক টাকা দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু তাতে কী আর হয়!‌ হরিয়ানার কার্নাল জেলার কৃষক অজয় সিং। বলছেন, ‘‌সময় থাকতে থাকতে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য জল ছেড়ে যাওয়া জরুরি।’‌ 
ধান, গমের ফলনেই কৃষকদের ঝোঁক বেশি কারণ নির্ধারিত দাম দিয়ে ওই শস্য কিনে নেয় সরকার (কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই–ই‌)। দেশের ৪০% জমিতে ধান, গম এবং আখ চাষ হয়, যার জন্য প্রায় ৮০% জল খরচ হয়। দেশজুড়ে জলসঙ্কট দূর করতে অনেকের পরামর্শ, চাষের জলের অধিক ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। এক্ষেত্রে অনেকে কৃষকদের ‘‌মগজধোলাই’–এর পরামর্শও দিচ্ছেন। বলা হচ্ছে, কৃষকদের এমন ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়া হোক যাতে জল অনেক কম লাগে। যেমন ওই ভুট্টা বা মিলেট শস্য। কিন্তু এই শস্য ফলিয়ে তেমন লাভ রাখা যায় না!‌ জলসমস্যা মেটাতে সরকারি নীতি প্রণয়ন অবশ্যই জরুরি। কিন্তু তাতে যদি কৃষকের পেটে লাথ পড়ে, তার প্রভাব পড়বে ভোটে, দাবি বিশেষজ্ঞদের। তাই সরকারকে বুঝেশুনে পা ফেলতে হবে। কৃষি বিভাগের প্রাক্তন সচিব সিরাজ হুসেন বলছেন, ‘‌এ তো সবে শুরু!‌ আসতে আসতে গোটা ভারতেই এই ছবি দেখা যাবে। ধান, গম, আখের ফলনে জল বেশি লাগে। পরিবর্তে এমন ফসলের চাষ হোক যাতে জল কম লাগে। এক্ষেত্রে সরকারকে টাকা খরচ করতে হবে। নির্ধারিত দামে সেই ফসল চাষিদের থেকে কিনতে হবে, যাতে তাঁরা আরও উৎসাহ পায়।’‌ 
ধান বা গম চাষ থেকে চাষিদের নজর ঘোরানো এত সহজ হবে না! চলতি বছরের শুরুতেই‌ রাজ্যের মাত্র অর্ধেক জমিতে ধান চাষের নির্দেশ দিয়েছিল হরিয়ানা সরকার। তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন কৃষকেরা। সরকারি নীতির বিরোধিতা করেছিল বিরোধী দল কংগ্রেসও। ধান, গম চাষে ঝোঁক তৈরি হয়েছিল সবুজ বিপ্লবের সময় থেকে। সরকার নিজে সার, বিদ্যুত এবং জলের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। কৃষকেরাও দেখল, এই ফসলেই আয় বেশি। যা এখন অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। এই গতানুগতি কৃষি পদ্ধতি বর্জন করা সত্যিই কঠিন, মানছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। আবার অনেকের বক্তব্য, জলের অভাব দেখা দিলেই কৃষকেরা আপনা থেকেই ‘‌অভ্যেস’ ত্যাগ করবে। কিন্তু জলের জোগান দিতে না পারার দোষ সরকারের ঘাড়েই চাপবে। অর্থনীতিবিদ ইলা পট্টনায়ক বলছেন, ‘‌আর্থিক সাহায্য দিয়ে কম জলনির্ভর ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিতে পারলে, তাতে খারাপ হবে না। কিন্তু সরকারি নীতি প্রণয়নের আগে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। যাতে সরকারি সিদ্ধান্তে ভরসা পান তাঁরা। পাশাপাশি তাঁদের আরও সময় দিতে হবে!‌ এমন পরিবর্তন চটজলদি সম্ভব নয়।’‌‌  

জনপ্রিয়

Back To Top