Middle Class: কোভিডের কাঠগড়ায় মধ্যবিত্ত! বাড়ছে আশঙ্কা! ভবিষ্যত কোন পথে?

সুশান্ত সান্যাল:‌ মহামারিতে ধুঁকছে গোটা বিশ্ব।

ভারতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ মধ্যবিত্ত পরিবার একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আগে দেখে নেওয়া যাক, এই মধ্যবিত্তের অবদান ভারতে কতটা ? 
২০২০ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৩০% হল মধ্যবিত্ত। আর করদাতা হিসেবে তাদের প্রভাব রয়েছে প্রায় ৭৮%। এছাড়াও দেশের ভোগ্যপণ্যের ভোগের ক্ষেত্রে তাদের অনুদান ৭০%। দেশের অর্থনৈতিক সুত্র জানাচ্ছে, যে বার্ষিক পাইকারি মূল্যের মুদ্রাস্ফীতির হার অক্টোবর ২০২১ সালে দাঁড়িয়েছে ১২.৫৪%, যা গত ২৩ বছরে সর্বোচ্চ। তাই নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মধ্যবিত্তর। 
কোভিড কালে বেড়েছিল ফার্মা আর আইটি কোম্পানির ব্যবসা। অর্থনীতির ভাষা অনুযায়ী এর ফলে শ্রমনিবিড় শিল্পে কমেছিল ব্যবসা, ফলে কাজ হারিয়েছে বহু মানুষ। কারণ এই শ্রমনিবিড় শিল্পের ওপরেই দেশের ৩০% মানুষ নির্ভর করেন, যার মধ্যে সিংহভাগ মধ্যবিত্ত। গত বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে মধ্যবিত্ত অবস্থা থেকে দারিদ্র্যসীমার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষ। বর্তমানে দুধ থেকে সব্জি, মাছ-মাংস থেকে রান্নার তেল, জুতো থেকে জামাকাপড়, বাস ভাড়া, ওষুধের খরচ— কোনও দিকেই রেহাই মিলছে না। 
এর মধ্যে  নিঃশব্দে কখন যে বেড়ে গেছে ইনসিওরেন্স–এর বার্ষিক প্রিমিয়াম সেটা ধরাই যায়নি। সাধারণ একজনের কথায়, গত বছর পর্যন্ত যে মেডিক্লেইম (‌স্বাস্থ্যবিমা)‌–এর প্রিমিয়াম দিতে হত ৮ হাজারের কাছাকাছি, সেটাই এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজারে, যা প্রায় ১৩৭% এর কাছাকাছি। এদিকে সরকারি চাকুরে বাদ দিলে কোভিড কালে বেশির ভাগ মানুষের কমেছে আয়, বেড়েছে চাকরির অনিশ্চয়তা, কাজ হারিয়েছে বহু মানুষ। দৈনন্দিন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে নিতে হচ্ছে ঋণ, কিন্তু পরিশোধ করবে কীভাবে ভেবে না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকে। 
স্কুল বা কলেজের মাইনে বহু আলোচনার পরও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একই জায়গায় দাড়িয়ে। সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না কোথায় যাবে, কী করবে? ধরা যাক এলপিজির কথা। ২০১৪ সালের ১ মার্চ একটা সিলিন্ডারের দাম যেখানে দিতে হত ৪১০.৫০ টাকা, সেটা এখন এসে দাঁড়িয়েছে ৯২৭ টাকা। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম  ছাড়িয়েছে ২,০০০ টাকা। তাই বেড়েছে রেস্তোরাঁয় খাবারের দামও। ডিজিটাল ইন্ডিয়াতে মানুষ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা যুক্ত ফোনে। এখানেও রেহাই নেই, দাম বেড়েছে প্রায় ২০%–এর মতো। 

 

Rahul-Shiv Sena: মমতার খোঁচাই কি কাছে আনল সেনা–কংগ্রেসকে!‌ রাহুলকেই বিরোধী–রাশ ধরতে বললেন রাউত
শান্তিতে টিভি দেখার খরচও বেড়ে গেছে। বাজারের খবর, খুব শিগগিরই বাড়তে চলেছে সিমেন্টের দাম, যা বস্তা পিছু ১৫/২০ টাকা বাড়তে পাড়ে বলে ইঙ্গিত। স্টিল বা লোহার দাম বেড়েই রয়েছে, তাই আগামিদিনে এর প্রভাব পড়তে  চলেছে মানুষের স্বপ্নের বাসস্থানের ওপরও। সরকারি করের ওপর কোনও ছাড় নেই (কয়েকটি বিশেষ কর ছাড়া), দিতে হচ্ছে গুনে গুনে। কয়লার আকালের প্রভাব খুব শিগগিরই পড়তে পাড়ে বিদ্যুতের দামের ওপর, মত বিশেষজ্ঞদের। আর পেট্রোপণ্যের মূল্য তো ছুঁয়েছে আকাশ। 
পাল্লা দিয়ে কমছে ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের সুদের হার। দু’‌–এক বছর আগে ৮.৫/৯ শতাংশ সুদ বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ৪-৫.৫ শতাংশের এর মধ্যে। তাই সেখানেও দু’‌ পয়সা বাড়াবার উপায় নেই। তার ওপর বাড়ছে এটিএম থেকে টাকা তোলার খরচ। তাই নাজেহাল মানুষ মুক্তির পথ খুঁজছে। দেশের মাত্র প্রায় ৫-১০% লোক সরকারি চাকুরে, যদিও সংখ্যাটা প্রতিনিয়ত কমছে। শেষ পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ২০% শূন্যপদে নিয়োগ বাকি রয়েছে। সরকারি চাকরি বাদে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ কী করবে? উঠছে জোরালো প্রশ্ন।
দেশের সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, ফলপ্রসু কতদিনে হবে বলা যাচ্ছে না। সরকার জোর দিচ্ছে সঠিক মূল্যে গণ বণ্টন ব্যবস্থার ওপর। তবে সাধারণ মধ্যবিত্তের হাতে পয়সার জোগান না বাড়লে, বাড়বে না ক্রয় ক্ষমতা, এগোবে না অর্থনীতির চাকা। বলছেন অর্থনীতিবিদরা। তাই সরকারের কাছে জোরালো হচ্ছে দাবি। মধ্যবিত্ত আর খেটে খাওয়া মানুষ দাবি তুলেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুক সরকার। এর মধ্যেই আশার আলো দেখাচ্ছে ভারী শিল্পের অগ্রগতি। দেশের জিএসটি আয় বাড়ছে। বৈদেশিক বাণিজ্যে সাফল্য আসছে। আগামিদিনে হয়তো বিশ্ববাজারে কমবে তেলের দামও। তাই পরিস্থিতিতে কবে বদল আসবে? সরকারই বা কী কী পদক্ষেপ নেবে? সেদিকেই তাকিয়ে এখন জাঁতাকলে আটকে যাওয়া সাধারণ মধ্যবিত্ত দিন গুনছে। 

আকর্ষণীয় খবর