আজকালের প্রতিবেদন 
দিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর

‌এপ্রিল–জুন ত্রৈমাসিকে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি–র বিরাট পতনের পর ‘‌মাসিক অর্থনৈতিক রিপোর্ট’‌ প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। বক্তব্য, দেশ জুড়ে অত্যন্ত কড়া লকডাউনের ফলেই গত এপ্রিল–‌‌জুন ত্রৈমাসিকে জিডিপি ২৩.‌৯ শতাংশ কমেছে। তবে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ‘‌ভি’‌ আকারে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। যার অর্থ, যেভাবে পড়েছিল, সেভাবেই বাড়ছে উৎপাদন। যাত্রিবাহী গাড়ি, ট্রাক্টর, রাসায়নিক সার, মালগাড়ি বুকিং, লোহা ও লৌহ আকরিকের ব্যবহার, সিমেন্ট উৎপাদন, বিদ্যুতের ব্যবহার, ই–‌‌ওয়ে বিল, জিএসটি আদায়, দৈনিক টোল সংগ্রহ, রপ্তানি ইত্যাদি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বলা হয়েছে, লকডাউনের পর এই প্রথম গত আগস্টে দেশের ‘‌ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স (‌পিএমআই)‌ ইনডেক্স’‌ ৫২.‌২–‌‌তে পৌঁছেছে। যা উৎপাদন শিল্পের জন্য সুখবর। কৃষিক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ভাবে পুনরুদ্ধারের সঙ্কেত মিলেছে। 
এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছিল পঞ্চদশ অর্থ কমিশন। জিডিপি–‌‌র পতন এবং জিএসটি আদায় কমে যাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিছু দিন পর আগামী অর্থবর্ষের জন্য কেন্দ্রকে সুপারিশ পেশ করবে কমিশন। 
সরকারের ব্যয় কমাতে সমস্ত মন্ত্রককে ডায়েরি এবং দেওয়াল ও টেবিল ক্যালেন্ডার, উৎসবের গ্রিটিংস কার্ড, ছোটখাটো বই–‌‌সহ আরও কিছু সামগ্রী ছাপা বন্ধ করতে বলেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। পরিবর্তে ডিজিটাল ক্যালেন্ডার প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। সমস্ত মন্ত্রক, দপ্তর, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক–‌‌সহ অন্যান্য সরকারি সংস্থাকেও এই ধরনের সামগ্রী ছাপা বন্ধ রাখার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এর ফলে নাকি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন উৎসাহ পাবে। 
অন্য দিকে, অর্থনীতি ও বেকারত্ব ইস্যুতে আরও একবার নরেন্দ্র মোদিকে তুলোধোনা করেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, ‘দেশের ‌যুব সমাজ দারিদ্র ও বেকারত্বের কবলে পড়ে চরম সমস্যার সম্মুখীন। সমাধানের পথ খুঁজুক কেন্দ্রীয় সরকার।’‌ রাহুল দাবি করেছেন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান মুখ থুবড়ে পড়ার কারণে গত আগস্টে দেশে বেকারত্বের হার আরও বেড়েছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। টুইটে তিনি লিখেছেন, ২০১৭–‌‌র এসএসসি সিজিএলের নিয়োগ এখনও হয়নি। ২০১৮–‌‌র পরীক্ষার ফল এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ২০১৯–‌‌এর পরীক্ষাই হয়নি। ২০২০ সালে এখনও কোনও শূন্যপদ পূরণের তালিকা প্রকাশিত হয়নি।’‌ আরও লিখেছেন, ‘‌যদি শূন্যপদ প্রকাশ করা হয়, তা হলেও পরীক্ষা হবে না। কোনও নিয়োগ হবে না।’‌
কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা রাষ্ট্রপুঞ্জের এক সাম্প্রতিক রিপোর্টের উল্লেখ করে ইউপিএ আমলের সঙ্গে এনডিএ আমলের তুলনা টেনে তিনি বলেছেন, ‘‌গোটা দেশে দারিদ্র হুহু করে বেড়েছে। যার মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার দাবি, দেশে ৪০ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে চলে গিয়েছেন।’‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top