সংবাদ সংস্থা
দিল্লি, ২৭ জুন

‌‌দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ারে হঠাৎ টান। গত ৯ জুন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় পৌঁছে গিয়েছিল ৫০৫৫‌৬.‌৬ কোটি  ডলার, যা এক রেকর্ড। এক সপ্তাহে অঙ্কটা ২০৭.‌৮ কোটি ডলার কমে গেল। এরকমই বলছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য। গত এক মাস ধরেই বাড়তির দিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঞ্চয়। লকডাউনের জন্য আমদানিও কম। এরপরেই গত এক সপ্তাহের মধ্যে এই পতন। আন্তর্জাতিক বাজারে বিদেশি মুদ্রা পড়ার কারণে দেশের বাজারে এই ঘাটতি। ‘‌ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটস’‌ বা এফসিএ–‌র আওতায় ইওরো, পাউন্ড, ইয়েনও পড়ে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে সোনার দামও পড়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার বা আইএমএফ–এ ভারতের গচ্ছিত টাকার অঙ্ক কমেছে। প্রায় ১৬০ লক্ষ ডলার। 
দেশের অর্থনীতিও গভীর সঙ্কটে। চলতি আর্থিক বছরে অর্থনীতি সঙ্কুচিত হতে পারে প্রায় ৫ শতাংশ। সতর্ক করল এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিং সংস্থা। কোভিড সংক্রমণ মোকাবিলায় সমস্যা, অর্থনৈতিক সঙ্কট নিরসনে নীতিগত ব্যর্থতা এবং বিশেষ করে আর্থিক ক্ষেত্রে চাপা–‌পড়ে–থাকা কিছু সমস্যা, এগুলোই চলতি বছরে ভারতের অর্থনীতিকে টেনে নামাবে বলে আশঙ্কা ওই গ্লোবাল রেটিং সংস্থার। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমীক্ষা সংস্থা ‘‌ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চ’–‌এর হিসেব অনুযায়ী, গড় জাতীয় উৎপাদন ৫.‌৩% সঙ্কুচিত হবে, যা ভারতের ইতিহাসে সবথেকে কম জিডিপি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কারণ আগে–‌থেকেই–‌দুর্বল জাতীয় অর্থনীতি কোভিড অতিমারীর ধাক্কা স্রেফ সামলাতে পারেনি। আচমকা লকডাউনের কারণে যে ব্যাপকতা এবং দ্রুততায় কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খল হঠাৎই ছিন্ন হয়েছে, বাণিজ্যিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে, তেমন আগে কখনও ঘটেনি। ফলে, এর আগেও পঁাচবার জিডিপি–‌র সঙ্কোচন ঘটলেও এত খারাপ অবস্থা কখনও ঘটেনি। এর পাশাপাশি বিমান সংস্থাগুলি এতদিন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। পর্যটন, হোটেল, রেস্তোরঁা এবং আনুষঙ্গিক পরিষেবার ব্যবসা কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে গেছে। ২০২০–‌২১ অর্থবর্ষের পুরো সময়টা লেগে যাবে এই সমস্ত বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসতে।
 এসঅ্যান্ডপি–‌র মনে, ভারতে কম জনঘনত্বের এলাকায় লকডাউন শিথিল হলেও সংক্রমণ বাড়ায় এবং উপভোক্তারা ঝুঁকি এড়িয়ে চলায় শহরাঞ্চলের অর্থনীতি এখনও পুনরুজ্জীবিত হতে পারেনি। তবে এ বছর বর্ষা স্বাভাবিক হলে, জ্বালানির দাম কম থাকলে এবং বিদেশের আর্থিক পরিস্থিতি চাঙ্গা হলে সঙ্কটের চাপ কিছুটা কমতে পারে। সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, যদি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি বেশি খরচও করে, তাতেও বিনিয়োগের হার কম থাকবে, উৎপাদন কমবে এবং প্রাক‌–‌কোভিড পরিস্থিতির তুলনায় অর্থনীতি ২ থেকে ৩ শতাংশ সঙ্কুচিত হবে। এসঅ্যান্ডপি রেটিং সংস্থার বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এশীয়–‌প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে কোভিডের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে। এই পরিস্থিতিতে লোকে খরচ করতে চাইবে না। ফলে বাড়বে কোম্পানিগুলির ঋণের পরিমাণ। ব্যালান্স শিটের অবস্থাও হবে তথৈবচ। 
ফলে এই সময়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে ধরাবঁাধা নিয়মের বাইরে গিয়ে নানা পদক্ষেপ করতে হবে। 


 

জনপ্রিয়

Back To Top