রাজীব চক্রবর্তী
দিল্লি, ৭ সেপ্টেম্বর

জিডিপি সঙ্কোচন এবং দেশের ভেঙেপড়া অর্থব্যবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর তথা অর্থনীতিবিদ রঘুরাম রাজন। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে দেশের অর্থব্যবস্থা এতটাই রুগ্ণ যে, এক্ষুণি আর্থিক প্যাকেজের মতো ‘‌টনিক’ দিতে হবে। কারণ, এই পরিস্থিতিতে সরকারি সহযোগিতা হিসেবে আর্থিক প্যাকেজই সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। দেরি হলে সমূহ বিপদ।
সম্প্রতি চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক (এপ্রিল থেকে জুন) আর্থিক বৃদ্ধির হারের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, জিডিপি–র ঐতিহাসিক পতন বিগত আড়াই দশকের যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। দেশের জিডিপি পতনের হার ২৩.‌৯ শতাংশে পৌঁছেছে। রাজনের মতে, পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’। তাঁর আশঙ্কা, জিডিপি পতনের এখানেই শেষ নয়। অদূর ভবিষ্যতে আরও পড়তে পারে আর্থিক বৃদ্ধির হার। রাজন মনে করছেন, গত মার্চে কেন্দ্রীয় সরকার যে ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা মোটেই যথেষ্ট নয়। তাঁর মতে, বিশ্বের অন্য যে সব দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভারতের চেয়ে তুলনায় অনেক বেশি, সেই দেশগুলোর চেয়েও ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক খারাপ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্য শেয়ার করেছেন রঘুরাম। লিখেছেন, ‘‌ভারতের ভাল অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রয়োজন। শুধু দেশের যুবসম্প্রদায়ের আশা–‌আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যই নয়, বরং যে সব প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখছে না, তাদের জন্যও।’‌ এরপর তিনি বলেছেন, সরকার ও চাকরিজীবীরা আগের মতোই পরিশ্রম করে চলেছেন। কিন্তু, তাঁদের আত্মতুষ্টির মনোভাব ছেড়ে বেরিয়ে এসে ভয় পাওয়া উচিত। এমন কিছু পদক্ষেপ করা উচিত, যাতে সুফল মিলবে। বলেছেন, ‘ভারতে এখনও করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকারেই রয়েছে। তাই বিলাসিতা থেকে সরে থাকবেন সাধারণ মানুষ। এই ভাইরাস যত দিন থাকবে, তত দিন খরচ কমানোয় জোর দেবেন তাঁরা।’‌
তবে, শুধু দুশ্চিন্তা ও আশঙ্কার কথাই বলেননি রঘুরাম রাজন, বলেছেন, ‘‌যদি দেশের অর্থব্যবস্থাকে অসুস্থ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে রোগীর মতোই চিকিৎসার প্রয়োজন। চিকিৎসা ছাড়া রোগীর পরিবার যেমন সমস্যার সম্মুখীন হয়, তেমনই সরকারি উদ্যোগের অভাবে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এই ধাক্কা সামলাতে পারবে না।’‌ তাঁর মতে, এই সময় ছোট্ট একটি রেস্টুরেন্টও তাদের কর্মীদের বেতন দিতে পারবে না। তাদের ঋণের বোঝা বাড়বে। বন্ধ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক সহায়তার প্যাকেজই টনিকের মতো কাজ করতে পারে। মনে রাখতে হবে, মরণাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে টনিক আর কাজ করবে না। সরকারের উচিত আর্থিক গতি আনতে পরিকল্পনামাফিক ব্যয়ে জোর দেওয়া। 
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন অবশ্য দাবি করছেন, দেশে আনলক পর্ব শুরু হতেই ক্রমশ গতি পাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top