আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ একদিকে সংক্রমণ বাড়ছে, জারি হচ্ছে আঞ্চলিক লকডাউন। চাহিদা–জোগান, দুইয়ের শৃঙ্খলেই ছেদ। অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি। ফের ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি ছেঁটে আশঙ্কা বাড়াল দুই বিদেশি ব্রোকারেজ সংস্থা। সিঙ্গাপুরের ডিবিএস এবং জাপানের নোমুরা। 
পূর্বাভাস দিয়ে ডিবিএস জানাচ্ছে চলতি অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির বহর ৬% সঙ্কুচিত হবে। এর আগে ঋণাত্মক আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাষ দিয়েছিল এই সংস্থা। জানিয়েছিল, মাইনাস ৪.‌৮% হারে বাড়তে পারে জিডিপি। ডিবিএস এর অর্থনীতিবিদ রাধিকা রাও জানান, সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে না আসার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র পুরোপুরি খুলে দেওয়া যায়নি। দেশের অর্থনীতিতে অতিমারীর কামড় আরও গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি হবে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে অর্থনীতির সঙ্কোচনের হার দুই সংখ্যায় পৌঁছলেও পরের ত্রৈমাসিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর‌) গতি সামান্য ফিরবে। আশা, তৃতীয় ত্রৈমাসিক থেকে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাবে, বলেন রাধিকা রাও। সংস্থার রিপোর্ট জানাচ্ছে, দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০% আসে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, গুজরাট, কর্নাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। আর এই রাজ্যগুলিতেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। দেশে মোট আক্রান্তের প্রায় ৭০%। আনলক পর্বে কেন্দ্রের তরফে লকডাউন শিথিল করা হলেও বহু এলাকায় আঞ্চলিক লকডাউন জারি এখনও। বিমান পরিষেবাও পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলত ছিঁড়ছে জোগান শৃঙ্খল। মার খাচ্ছে গাড়ি এবং বৈদ্যুতিক শিল্প। অর্থনীতি চাঙ্গা করতে আরও বড় অঙ্কের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার পরামর্শ দিচ্ছে ডিবিএস ব্রোকারেজ সংস্থা। 
অন্যদিকে অর্থনীতি ৬.‌১% সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করল জাপানি সংস্থা নোমুরা। রিপোর্টে সংস্থা জানাচ্ছে, কোভিড ও লকডাউনের জেরে বাজারে জোগান ও চাহিদা, দুই–ই মার খেয়েছে। ‌পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে থাকলে আর্থিক বৃদ্ধি আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। নোমুরার দাবি, এপ্রিল–জুনে ১৫.‌২% কমবে অর্থনীতির বহর। গোটা অর্থবর্ষজুড়েই সঙ্কোচন জারি থাকবে। পূর্বাভাস দিয়ে জানানো হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের ত্রৈমাসিকে ৫.‌৬%, ডিসেম্বরে ২.‌৮% এবং জানুয়ারি–মার্চে ১.‌৪% সঙ্কুচিত হবে অর্থনীতির বেলুন। 
প্রাক–করোনা পর্ব থেকেই চাহিদায় ঘাটতি ছিল। কমছিল উৎপাদন। অতিমারীর ধাক্কায় এখন তা তলানিতে। অনিশ্চয়তা এবং বিপুল আয় ছাঁটাইয়ের কারণে ‘‌বাড়তি’‌ খরচ কমিয়ে আনছেন সাধারণ মানুষ। সঞ্চয়ে ঝোঁক বাড়ছে। ফলে আনলক পর্বে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র খুলে দেওয়া হলেও স্বাভাবিক হচ্ছে না চাহিদা–জোগানের যৌথ ক্রিয়া। রেপো রেট কমিয়ে এনে বাজারে চাহিদা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছে জাপানি ব্রোকারেজ সংস্থা।    

জনপ্রিয়

Back To Top