আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌প্রত্যেক পরিবারের জন্য ৫ লাখ টাকা স্বাস্থ্য বিমা। ২০১৮–র বাজেটে সবথেকে বড় চমক বলা চলে। এই স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আনা হবে দেশের ১০ কোটি পরিবারকে। বৃহস্পতিবারের বাজেট অধিবেশনে এককথায় এই স্বাস্থ্যবিমা ঘোষণা করে জনতার মনজয়ের চেষ্টা করেছে মোদি সরকার। ২০১৬–র বাজেটে এই স্বাস্থ্যবিমা চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন জেটলি। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও দেশবাসীর চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যবিমা চালু করার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৮–র নির্বাচনের আগে ভোটব্যাঙ্ক হাতে রাখতেই জেটলির এই স্বাস্থ্য বিমার কথা ঘোষণা বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তবে এই কর্মকাণ্ড কীভাবে করা হবে তার কোনও সুনিশ্চিত রূপরেখা ব্যাখ্যা করেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সূত্রের খবর তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে প্রথম স্তরে একেবারে দুঃস্থদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই দেওয়া হবে এই স্বাস্থ্যবিমা। তার উপরের স্তরে বেশিরভাগ ভর্তুকি দেবে কেন্দ্র। কিছু পরিমাণ টাকা দিতে হবে স্বাস্থ্যবিমার গ্রহকদের। 
টিবি রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মোদী সরকার। সেইসঙ্গে দেশে আরও জেলা হাসপাতাল তৈরি করা হবে।  মেডিকেল কলেজের সংখ্যা আরও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন জেটলি। প্রতি তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে যাতে একটি করে সরকারি মেডিকেল কলেজ থাকে সেলক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। ডাক্তারি শিক্ষার প্রসারেই সরকারের এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা, মেডিকেল কলেজ তৈরির কথা ঘোষণা করা হলেও দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে কোনও বাজেট বরাদ্দ হয়নি এবার।

স্বাস্থ্যবিমা থাকলেই সে গ্রামাঞ্চল এবং শহরাঞ্চলের প্রত্যেকটি দুঃস্থ নাগরিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেনই, তার কোনও সুনিশ্চিত ব্যাখ্যা সরকার দেয়নি। কাজেই এই স্বাস্থ্যবিমা গরিব মানুষের কাছে কতটা সুবিধের হবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। 
শিক্ষা ক্ষেত্রেও এই একই গিমিক দেখা গিয়েছে মোদির বাজেটে। শিক্ষকদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ডিজিটাইজেশনে জোর দেওয়া হয়েছে ঠিকই কিন্তু ঘরে ঘরে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার কোনও প্রকল্প ঘোষণা করা হয়নি। মিড ডে মিলের আধার সংযুক্তিকে কে ঘিরে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে তার কোনও সমাধান মোদির বাজেটে শোনা যায়নি। উত্তর–পূর্বের তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই আদিবাসীদের শিক্ষার জন্য একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।  তাঁর দাবি ২০২২–এর মধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় অন্তত ২০ হাজার আদিবাসী শিশু শিক্ষার সুযোগ পাবে। এই একলব্য প্রকল্পের আওতাভুক্ত স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। একাধিক স্কুলে ডিজিটাল ব্ল্যাকবোর্ড ব্যবহার বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন জেটলি। অথচ স্কুলের উন্নয়নে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালগুলির মাননোন্নয়নে কোনও প্রকল্প ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু দেশে আরও তিনটি স্থাপত্য বিদ্যালয় তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন জেটলি। এর থেকেই স্পষ্ট কেবল মাত্র ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কোনও ছাপ নেই। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top