আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ লকডাউনে অচল শিল্পক্ষেত্র। ঋণের টাকা মেটানোর ক্ষমতা নেই বহু সংস্থার!‌ চলতি অর্থবর্ষের শেষে ‌ব্যাঙ্কঋণের সাপেক্ষে মোট অনুৎপাদক সম্পদের হার ৮.‌৫% থেকে একলাফে ১২.‌৫%–এ ঠেকতে পারে। আশঙ্কা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। আরও খারাপ পরিস্থিতিতে সেই হার হতে পারে ১৪.‌৭%। শুক্রবার ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ করে আরবিআই। জানানো হচ্ছে, অতিমারীর জেরে ২০০৮ সালের মন্দার চেয়েও খারার পরিস্থিতি তৈরি হবে। বিশ্বজুড়ে ঋণের বোঝা সে বারের তুলনায় ইতিমধ্যেই ৪০% বেড়ে গেছে। হিসেব অনুযায়ী, ঋণের পরিমাণ ৮৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়েছে। যা কিনা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৩২২%। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা সত্যি করে করোনাভাইরাস এবং লকডাউনের কারণে বিশ্বঅর্থনীতির বহর যদি ৩% সঙ্কুচিত হয়, তাহলে ঋণের বোঝা বেড়ে বিশ্বের মোট জিডিপি–র ৩৪২% হতে পারে। 
কোভিড পরিস্থিতি কত দিনে নিয়ন্ত্রণে আসবে, বোঝা মুশকিল!‌ ফলত অর্থনীতির রথের চাকা উল্টো পথেই ঘুরবে। আশঙ্কা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। রিপোর্টে বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, বাজারে চাহিদা এবং জোগানের ওপরেই নির্ভর করছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের স্বাভাবিকতা। পাশাপাশি বাণিজ্য এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বড় প্রভাব ফেলবে। লকডাউনে চাহিদা এবং জোগানের যৌথ ক্রিয়াই বন্ধ হয়ে গেছে। অনিশ্চয়তায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। জরুরি ক্ষেত্রে খরচ বাদে নগদ সঞ্চয়ে বেড়েছে ঝোঁক। অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ঝুঁকি এড়ানোর মানসিকতা ছাড়তে হবে ব্যাঙ্কগুলিকে। আরও পরামর্শ, ঋণদানের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা না মেনে বরং কী উপায়ে সম্পদ বাড়ানো যাবে, বাজারে টাকা ঢেলে অর্থনীতি চাকায় গতি ফেরানো সম্ভব, তার জন্য পদক্ষেপ করতে হবে। বাজারে নগদের জোগান বাড়াতে ঋণ নেওয়ার রাস্তা আগের চেয়ে অনেকটাই সহজ করেছে কেন্দ্র। তা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক নন সাধারণ মানুষ। চাহিদা না বাড়ার কারণেই নগদ বাজারে খাটানো যাচ্ছে না, যার জেরে অর্থনীতিতে এই স্লথগতি, বলছে আরবিআই।     

জনপ্রিয়

Back To Top