আজকালের প্রতিবেদন: ফোর্ড ভারতে তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ি ম্যাক ওয়ান তৈরি করার জন্যে কি বাংলাকে বেছে নেবে? এখন হয়তো আকাশকুসুম কল্পনা, তবে সোমবার মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে মমতা ব্যানার্জি মোটর গাড়ি শিল্পের পথিকৃৎ হেনরি ফোর্ডের প্রপৌত্র অ্যালফ্রেড ফোর্ডকে বাংলায় গাড়ি কারখানা স্থাপনের অনুরোধ করার পর প্রশ্নটা বুদ্বুদের মতো ভেসে উঠতে চাইছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি কেন? কারণ, এক, আর বছর পাঁচেকের মধ্যেই ভারতের রাস্তায় নতুন গাড়ির বেশির ভাগই হবে সন্দেহাতীতভাবে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি। দুনিয়া জুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিভিন্ন নির্মাতা সেই বাজারের জন্যে নিজেদের তৈরি করছে। এবং দুই, মাত্র মাসখানেক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে ফোর্ড মোটর কোম্পানির চেয়ারম্যান বিল ফোর্ড জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে ফোর্ড ২০২২ সালের মধ্যে ১১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। আনবে ব্যাটারিতে চলা বৈদ্যুতিক গাড়ির অন্তত ১৬টি মডেল। তার মধ্যে ১৬ ব্যাটারির এসইউভি গাড়ি ম্যাক ওয়ান বাজারে আসবে ২০২০ সালের মধ্যেই।
ফোর্ডের পক্ষে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার কারণও আছে। এই সেদিন পর্যন্ত ফোর্ডই ছিল আমেরিকার বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা। কিন্তু ২০১৭ সালে বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি টেসলা বিক্রির মোট অঙ্কে ফোর্ডকে ছাপিয়ে হয়ে উঠেছে আমেরিকার এক নম্বর গাড়ি কোম্পানি। এই টেসলাকে ভারতে আনার জন্যে একসময় উঠেপড়ে লেগেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু তাঁকে নিরাশ করে টেসলা তাদের এশিয়ার কারখানা বসানোর জন্যে বেছে নিয়েছে চীনকে। সুতরাং এশিয়ায় কারখানা বসানোর জন্যে টেসলার স্বদেশি প্রতিদ্বন্দ্বী ফোর্ড তো ভারতকে বেছে নিতেই পারে। আর, মমতা ব্যানার্জির অনুরোধকে গুরুত্ব দিলে সে কারখানা তো হতেই পারে পশ্চিমবঙ্গে।
তবে ইসকনে দীক্ষিত হওয়ার পর হেনরি–‌প্রপৌত্র অ্যালফ্রেড ফোর্ডের নতুন পরিচয় অম্বরীশ দাস। ফোর্ড মোটর কোম্পানির কাজকর্মের সঙ্গে আর তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ সংযোগ নেই। মমতা ব্যানার্জির অনুরোধ তিনি ফোর্ড কোম্পানির উচ্চতম মহলে পৌঁছে দিতে পারলেও সেই সুপারিশকে তারা কতটা গুরুত্ব দেবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবু, যাবতীয় সংশয়ের পরেও, তিনি হেনরি ফোর্ডের প্রপৌত্র। ফোর্ড কোম্পানি তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা ভারতেই বসাবে বলে ঠিক করলে, তাঁর সুপারিশকে মর্যাদা দিতে পশ্চিমবঙ্গ অবশ্যই বিবেচনায় আসবে। তাই না?

জনপ্রিয়

Back To Top