আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অতিক্ষুদ্র–ক্ষুদ্র–মাঝারি শিল্পের জন্য তিন লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর। মিলবে গ্যারান্টি ছাড়াই ঋণের সুবিধে। বাজারে নগদের জোগান বাড়াতে ধুঁকতে থাকা অব্যাঙ্ক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যেই বড় অঙ্কের প্যাকেজ ঘোষণা করলন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা কর্মীদের হাতে যাতে নগদ অর্থ বাড়ে, তার জন্য কম হারে ইপিএফ কাটা হবে বলেও জানালেন অর্থমন্ত্রী।
মঙ্গলবার আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের আওতায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় তিনি বলেন, কোন খাতে কত অর্থ বরাদ্দ করে আর্থিক সহায়তা করবে কেন্দ্রীয় সরকার, তা বুধবার থেকে ধাপে ধাপে জানাবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা। সেই মতোই বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হন তিনি। 
বৈঠকের শুরুতেই আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‌আত্মনির্ভর ভারত–এর অর্থ দেশের নিজস্ব শক্তি বাড়ানো। বিশ্ব বাজারে ভারতীয় পণ্যকে ব্র‌্যান্ড হিসেবে তুলে ধরা হবে। জোর দেওয়া হবে স্থানীয় উৎপাদনে। এই প্রকল্প ভারতকে স্বনির্ভর করে তোলার জন্য।’‌ ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশে অনেক আর্থিক সংস্কার হয়েছে। লকডাউনে তার সুফল পাচ্ছে গোটা। বলেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‌গরিবদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দেওয়া হচ্ছে। উজ্জ্বলা যোজনায় বিনামূল্যে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষি, শিল্প-সহ প্রায় সব ক্ষেত্রে বিপুল সংস্কার হয়েছে। করদাতাদের কর দেওয়ার পদ্ধতি অনেক সরল করা হয়েছে। লকডাউনে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ প্যাকেজ ঘোষণা হয়েছে।’‌ এদিন মোট ১৫টি পদক্ষেপের উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিকে চাঙ্গা করতে মোটি ৬টি পদক্ষেপের কথা বলছেন তিনি। জানান, ‘মোট ‌৩ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের ব্যবস্থা করা হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য। ঋণের উপর এক বছরের মোরেটরিয়াম দেওয়া হবে। ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গ্যারান্টির প্রয়োজন নেই। চার বছরের জন্য এই ঋণ দেওয়া হবে। ঋণ নেওয়ার প্রথম ১২ মাস অর্থাৎ এক বছর ঋণ পরিশোধ করতে হবে না। বার্ষিক লেনদেন ১০০ কোটি টাকা হলে, তবেই মিলবে ঋণ। পাশাপাশি ২০ হাজার কোটি নগদ সাহায্য করা হবে দুর্বল ও ঋণগ্রস্ত সংস্থার জন্য। ৫০ হাজার কোটি টাকার তহবিল তৈরি করা হয়েছে যা অপেক্ষাকৃত সক্ষম ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য দেওয়া হবে।’‌ অতিক্ষুদ্র–ক্ষুদ্র–মাঝারি শিল্পগুলি যাতে কোনও সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, তার জন্য এদের সংজ্ঞাই বদলে দিলেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, বিনিয়োগ করা মূলধনের পরিমাণের  সঙ্গে বাৎসরিক টার্নওভার যোগ করে অতিক্ষুদ্র–ক্ষুদ্র–মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিকে এবার থেকে চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘‌উৎপাদন শিল্পে মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে আগে ২৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ছিল, এখন সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে এক কোটি টাকা পর্যন্ত। এমনকি বিনিয়োগ এক কোটি এবং টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকা হলেও এখন থেকে সেই সংস্থাকে মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে ধরা হবে। ফলে আরও বেশি সংস্থা এই ক্ষুদ্র সংস্থার তালিকায় চলে আসবে। এদের ক্ষমতাও বাড়বে এবং শিল্প বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়াও ২০০ কোটি পর্যন্ত সরকারি টেন্ডারে ‘গ্লোবাল টেন্ডার’ করা হবে না। সেক্ষেত্রে টেন্ডার বেচাকেনায় অংশ নিতে পারবে এই সংস্থাগুলো। স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই সব সংস্থার সমস্ত পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেবে সরকার।’‌ অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘১২%–র পরিবর্তে ‌আগামী তিন মাস (‌জুন, জুলাই, আগস্ট‌) বেসরকারি কর্মীদের থেকে ১০% হারে ইপিএফ কাটা হবে। এর ফলে বেশি বেতন ইপিএফ গ্রাহকরা। ১৫ হাজারের থেকে কম বেতনের কর্মীদের তিন মাসের ইপিএফ দেবে‌ সরকার। ‌ফলে হাতে নগদ টাকা বেশি পাবেন কর্মীরা। তবে সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশই কাটা হবে। এই খাতে মোট ২,‌৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।’‌ অব্যাঙ্ক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্যাকেজ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আংশিক নগদ গ্যারান্টি প্রকল্পের আওতায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত সুবিধাও দেবে সরকার। এর ফলে ঋণ নিতে পারবে সংস্থাগুলি। কোনও গ্যারান্টি লাগবে না, সরকার গ্যারান্টর হবে। জানালেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও ধুঁকছে। তাদের জন্যে ৯০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ দেওয়া হবে। এই প্রকল্পে সহজে ঋণ পাবে সংস্থাগুলি। তবে এর সুবিধা গ্রাহকদের অবশ্যই দিতে বলে বলেও জানিয়েছেন নির্মলা। নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত সরকারি ঠিকাদারেরা কাজ শেষ করার জন্য আরও ছ’‌মাস বাড়তি সময় পাবেন। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‌নগরোন্নয়ন মন্ত্রক একটা নির্দেশিকা পাঠাবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে। রিয়েল এস্টেটের ক্ষেত্রে যে সব প্রকল্প চলছে, সেগুলির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে দেওয়া হবে।’‌ অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘‌আগামিকাল থেকে ৩১ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত টিডিএস ও টিসিএস ২৫ শতাংশ কম কাটা হবে। এর ফলে ৫০ হাজার কোটি টাকা সাধারণ মানুষের হাতে যাবে।’‌ এছাড়াও আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। 

জনপ্রিয়

Back To Top