আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অতিমারী দ্বিতীয় ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষত আরও গভীর হবে। মে–জুন মাসে বিশ্বের বহু দেশ লকডাউন শিথিল করায় জোগান শৃঙ্খলের সুতো ফের জোড়া লাগতে শুরু করেছে। তা যদি ফের ছেঁড়ে, তাহলে সামলানো মুশকিল হবে, আশঙ্কা মূল্যায়ন সংস্থা ফিচের। বিশ্বের উন্নত দেশগুলির অর্থনীতির বহর ৩–৪% সঙ্কুচিত হবেই, নতুন রিপোর্টে জানাচ্ছে সংস্থা। 
সম্প্রতি এপ্রিল–জুন ত্রৈমাসিকের জিডিপি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, স্পেন। প্রতিটি দেশেরই মোট জাতীয় উৎপাদনে সঙ্কোচনের হার ইতিহাসে সর্বাধিক। জোগান শৃঙ্খলে কাঁচি লাগায় মুদ্রাস্ফীতি আকাশছোঁয়া ইওরো জোনে। ইওরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান বিভাগ জানাচ্ছে, চলতি বছরের এপ্রিল–জুন ত্রৈমাসিকে ইওরোপীয় অঞ্চলের ১৯টি দেশের জিডিপি ১২.‌১% কমেছে। স্পেনের অর্থনীতি ১৮.‌৫% সংকুচিত হয়েছে এই সময়ে। পূর্বাভাস যা ছিল, তার তুলনায় ফ্রান্স এবং ইতালির জিডিপি হ্রাস কিছুটা স্বস্তিতে। কমেছে যথাক্রমে ১২.‌৪% এবং ১৩.৮%। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানির জিডিপি কমেছে ১০.‌১%। 
করোনা হানায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকার অর্থনীতি। এপ্রিল–জুন ত্রৈমাসিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বহর কমেছে ৩২.‌৯%। মোট জাতীয় উৎপাদন ৩০%–এরও বেশি কমেছে যা কিনা ১৯৫৮ সালের মন্দার তিনগুণ। যদিও করোনা সঙ্কটের আগে থেকেই ধুঁকছিল মার্কিন অর্থনীতি। জানুয়ারী–মার্চের ত্রৈমাসিকে আমেরিকার অর্থনীতির বহর ৫% কমেছিল। মারণ রোগ ঠেকাতে না পারার কারণে মার্কিন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে আরও বেশ খানিকটা সময় লেগে যাবে, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রবীণ মার্কিন অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হান্টার বলছেন, ‘‌মে–জুন মাসে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে গতি এসেছিল, তাতে মনে হয়েছিল, দ্রুত পালে হাওয়া লাগবে। কিন্তু হঠাৎ ফের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সেই আশা এখন অনেকটাই ক্ষীণ।’‌  

জনপ্রিয়

Back To Top